Showing posts with label প্রাথমিক চিকিৎসা. Show all posts
Showing posts with label প্রাথমিক চিকিৎসা. Show all posts

Saturday, November 8, 2025

অ্যালার্জি বা ত্বকের লালচে ভাব কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার

 


ত্বকের অ্যালার্জি বা লালচে দাগে ভুগছেন? ঘরে থাকা প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে জানুন অ্যালার্জি কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার ও সহজ যত্নের উপায়।


অ্যালার্জি ও ত্বকের লালচে ভাব কেন হয়?

ত্বকের অ্যালার্জি সাধারণত হয় — ধুলোবালি, কেমিক্যাল, খাবার বা তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে।
লালচে দাগ, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
সঠিক যত্ন না নিলে এগুলো বেড়ে গিয়ে ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।


ঘরোয়া উপকরণে সহজ প্রতিকার:

১. অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরার ঠান্ডা প্রভাব ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ত্বকের জ্বালাপোড়া ও লালভাব কমায়।
ব্যবহার:

  • তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগান।

  • দিনে ২ বার ব্যবহার করুন।
    ফলাফল: ১–২ দিনের মধ্যেই ত্বক শান্ত ও মোলায়েম হবে।


 ২️.ঠান্ডা দুধ ও তুলা

দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে আরাম দেয় এবং লালচে ভাব কমায়।
ব্যবহার:

  • তুলা দুধে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৫–১০ মিনিট রাখুন।

  • দিনে একবার করলে ভালো ফল পাবেন।


 ৩️.গ্রিন টি কমপ্রেস

গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকের প্রদাহ ও অ্যালার্জি কমায়।
ব্যবহার:

  • ঠান্ডা করা গ্রিন টি তুলোয় ভিজিয়ে ত্বকে লাগান।

  • ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।


 ৪️.মধু ও হলুদের প্যাক

মধু ত্বক নরম করে, আর হলুদ অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে।
ব্যবহার:

  • ১ চা চামচ মধু + ½ চা চামচ হলুদ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।

  • ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
    ফলাফল: ত্বক উজ্জ্বল ও অ্যালার্জিমুক্ত লাগবে।


 ৫️.ঠান্ডা বরফ প্যাক

বরফ ত্বকের ফুলে যাওয়া ও লালচে ভাব তাড়াতাড়ি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

  • কাপড়ে বরফ মুড়ে হালকা চাপ দিন ২–৩ মিনিটের জন্য।
    সরাসরি বরফ লাগাবেন না — ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


অ্যালার্জি হলে কী করবেন না?

❌ কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা পারফিউম লাগাবেন না।
❌ চুলকাবেন না বা ঘষে পরিষ্কার করবেন না।
✅ প্রচুর পানি পান করুন — শরীর ঠান্ডা রাখুন।
✅ তুলা বা ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
✅ অ্যালার্জি বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


Saturday, October 11, 2025

সামান্য পুড়ে গেলে ঘরোয়া উপায়ে কী করবেন

 



রান্নাঘরে বা দৈনন্দিন কাজে হঠাৎ হাত বা আঙুলে সামান্য পোড়া লাগা খুবই সাধারণ ঘটনা।তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই — কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় জানলে পোড়ার ব্যথা ও জ্বালাভাব দ্রুত কমানো যায়।


 পুড়ে গেলে  প্রথমে যা করবেন-


১. পোড়ার জায়গা ঠান্ডা করুন:

পোড়া জায়গায় সাথে সাথে ঠান্ডা (বরফ নয়) পানি ১০–১৫ মিনিট ধরে ঢালুন বা ভেজা কাপড় চেপে রাখুন।এতে ত্বকের তাপমাত্রা কমে এবং কোষের ক্ষতি কম হয়।


২.পরিষ্কার করুন:

পোড়া জায়গা হালকা স্যাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করুন, যেন জীবাণু সংক্রমণ না হয়।


ঘরোয়া উপায়ে উপশম এর জন্য যা করতে পারেন:

-অ্যালোভেরা পোড়ার ত্বকে ঠান্ডা ভাব আনে এবং দ্রুত আরাম দেয়। তাজা অ্যালোভেরা পাতার জেল লাগান।

-মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ আছে। পোড়া জায়গায় হালকা করে লাগালে ইনফেকশন রোধ করে এবং ত্বক দ্রুত সারে।

-পোড়া জায়গা ঠান্ডা হওয়ার পর অল্প নারকেল তেল লাগাতে পারেন। এটি ত্বক নরম রাখে ও দাগ পড়া রোধ করে।


🚫 যা করবেন না

 বরফ সরাসরি লাগাবেন না — এতে ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 পোড়া জায়গা ঘষবেন না বা ফোস্কা ফাটাবেন না।

 ক্রিম বা টুথপেস্ট লাগাবেন না — এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে।


যদি পোড়ার জায়গা বড় হয়, ফোস্কা দেখা দেয়, বা ব্যথা কমার বদলে বেড়ে যায়  তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।




Saturday, June 28, 2025

ব্রণ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়



ব্রণ সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

বিভিন্ন ফল ও ভেষজ উপাদানের প্রাকৃতিক প্যাক ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়-


অ্যালোভেরা-হলুদ প্যাক:
অ্যালোভেরা এনজাইম, পলিসেকারিডস এবং পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। যা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে। অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের বিষাক্ত উপাদান দূর করে এবং ত্বকে পুষ্টি জোগায়, কোমলতা আনে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। হলুদে প্রদাহ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে যা ত্বকে ভালো রাখে। এক টেবিল চামচ হলুদ, মধু, দুধ এবং কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মেশাতে পারেন। এই মিশ্রণটি এবার অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 টক জাতীয় ফলের প্যাক:
লেবু, কমলার মতো টক জাতীয় ফলে অ্যাস্ট্রিনজেন উপাদান রয়েছে। যা ত্বকের ব্যাকটেরিয়া কমায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে। এই ফলের রস মুখে ঘষে ঘরে লাগানোর পর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর উষ্ণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

দুধ:
চর্বির উপাদানের কারণে এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী। তৈলাক্ত ত্বকে দুধের ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ত্বক আরও তৈলাক্ত হয়।

মধু:
এটি ত্বকে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। সব ধরনের ত্বকের জন্যই এটি উপযোগী। 

শসা:
শসার নানা গুণ রয়েছে। তার মধ্যে একটা অবশ্যই ত্বকের কাজে লাগা। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এর প্রতিটিই ত্বকের জন্য মারাত্মক ভালো। শসা থেঁতো করে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন মুখ। এছাড়াও শসা গোল গোল করে কেটে অন্তত একঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানি খেয়েও নিতে পারেন, বা ওই পানি দিয়ে মুখও ধুয়ে নিতে পারেন।

টুথপেস্ট:
ফেসপ্যাকের মতো করে ব্যবহার করতে পারেন টুথপেস্ট। মুখের অতিরিক্ত তেল টেনে নেওয়ায়র ক্ষমতা আছে এই পেস্টের। ফলে তৈলাক্ত ত্বকের কারণে যাদের মুখে ব্রণ বা গোটা বের হয়, তারা টুথপেস্ট ব্যবহার করে উপকার পেতে পারেন।

গ্রিন টি:
গ্রিন টি গোটা বা ব্রণের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী। গরম পানি গ্রিন টি বানান। তারপর সেই গ্রিন টি একদম ঠাণ্ডা করে ব্রণ বা গোটার জায়গায় ব্যবহার করুন। তুলায় ভিজিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভালো করে ত্বকের ওপর মিশতে পারবে চায়ের মিশ্রণটি। যদি টি ব্যাগট থেকে গ্রিন টি বানান, তাহলে ঠাণ্ডা গ্রিন টি ব্যাগটিও রাখতে পারেন ত্বকের ওপর। মিনিট ২০ রাখার পর ধুয়ে নিন। 

অ্যাসপিরিন:
খাওয়ার ওষুধ হিসেবেই নয়, ব্রণ বা গোটা সারাতেও এই ওষুধের জুড়ি নেই। এতে থাকা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্রণ তাড়াতাড়ি শুকিয়ে দেয়। চার-পাঁচটা ট্যাবলেট প্রথমে গুঁড়িয়ে নিন। তারপর সেগুলো অল্প পানির সঙ্গে মেশান। এমনভাবে মেশাবেন, যাতে একটা পেস্ট তৈরি হয়। রাতে শুতে যাওয়ার আগে পেস্ট আক্রান্ত জায়গায় লাগান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলে, কয়েক মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন। 

রসুন:
রসুন ব্রণের বড় শত্রু। এটি ব্যবহার করাও খুব সহজ। এক-দুই কোয়া রসুন দুই টুকরা করে কেটে নিন। তারপর ব্রণের জায়গায় রসটা লাগান। মিনট পাঁচেক পরে ধুয়ে ফেলুন।লেবুর 


রস:
তুলায় করে লেবুর রস ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে নিতে পারেন। লেবুর রসের সঙ্গে দারুচিনির মিশ্রণ তৈরি করে, রাতে শুতে যাওয়ার আগে সেটা ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখতে পারেন। সকালে হালকা উষ্ণ পানিতে ধুয়ে নেবেন।

Monday, June 23, 2025

গরমে ঘামাচি সমস্যার সমাধান


ঘামাচির সমস্যা


গরম এলেই দুশ্চিন্তা বাড়ে অনেকের। কারণ গরম এলেই বাড়ে ঘামাচির অত্যাচার। অনেকে বিভিন্ন ধরণের পাউডার ব্যবহার করেও মেলে না প্রতিকার। ঘামাচির কারণে বিব্রত হন অনেকে। কারণ ঘামাচি চুলকানি যেন অসহ্যকর তেমনি আপনার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যহত হয়। আর দৈহিক সৌন্দর্য নষ্ট করে। গরমে ঘাড়, পিঠ, গলা, হাত, মুখসহ শরীরের নানা স্থানে লাল ছোট ছোট ঘামাচি দেখা দেয়। ঘামাচির কারণে অসহ্য রকম চুলকানিও হয়।

আসুন জেনে নেই ঘামাচি তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়-

বরফের সেঁক:
ঘামাচি প্রতিরোধে বরফ ভালো কাজ করে। বরফ একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে ঘামাচির স্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট সেঁক দিন। এটি ঘামাচি মেরে ফেলে লাল হওয়া কমিয়ে দিয়ে থাকে। 

বেসন
বেসন এবং পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলকানি দূর করে ঘামাচি দূর করে দেবে।

মুলতানি মাটি
পাঁচ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে দুই অথবা তিন টেবিল চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

Friday, June 20, 2025

অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়




gas



অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার  ঘরোয়া উপায়ঃ

পর্যাপ্ত পানিঃ

প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি পান করতে হবে যদি আপনি কোলন পরিষ্কার রাখতে চান। এতে মলের সঙ্গে শরীরে জমা ময়লা বের হয়ে যাবে। পানির পাশাপাশি ওরস্যালাইন ও ডাবের পানিও পান করতে পারেন। এতে উপকার পাবেন। তবে কিডনি বা হার্টের অসুখ থাকলে বেশি পানি পান করবেন না। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পানি পান করুন।

হাই ফাইবারঃ

ফাইবার যুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে মিলবে একাধিক উপকার। ডায়াবেটিস, প্রেশার, কোলেস্টেরল সহ বিভিন্ন ক্রনিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও অত্যন্ত কার্যকরী এ ধরনের খাবার। ফাইবার যুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে অন্ত্রের ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই শাক, সবজি, ফলের মতো ফাইবার যুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করুন।

রেজিস্টেন্স স্টার্চঃ

ডাল, কলা, আলু জাতীয় খাবারে আছে পর্যাপ্ত রেজিস্টেন্স স্টার্চ। আর এই উপাদান পেট ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিনের তালিকায় কলা, আলু, ডাল জাতীয় খাবার রাখুন। তবে ডায়াবেটিস থাকলে এ জাতীয় খাবার কম খাওয়াই ভালো।

ফলের রসঃ

কোলোনের ময়লা দূর করতে চাইলে ফলের রস খেতে হবে নিয়মিত। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের ফলের রস খেলে কোলোনে জমে থাকা ময়লা বের যায়। এটি খাবার হজমেও সাহায্য করে। তাই পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ফলের রস খান। তবে বাইরে থেকে কেনা জুস নয়, বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেলে উপকার পাবেন।

হার্বাল টিঃ

উপকারী পানীয়র তালিকা করলে হার্বাল টি- এর নাম থাকবে উপরের দিকেই। এ জাতীয় সব চা-ই উপকারী। এই পানীয় অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে বেশ কার্যকরী। তাই নিয়মিত এই চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে গ্যাস্ট্রিক, বদ হজম, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দূর হবে।

Sunday, August 4, 2024

কেন রক্তে লবণ কমে যায়, আর কমে যাওয়া কতটা ক্ষতিকর?

 


আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকমের খনিজ লবণ রয়েছে, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে যা খুবই প্রয়োজন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সোডিয়াম। আমরা যে লবণ ব্যবহার করি, সোডিয়াম তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সোডিয়াম আমাদের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে। অনেক সময় হঠাৎ কমে যেতে পারে এই সোডিয়াম, সেটিকেই আমরা সাধারণ ভাষায় লবণ কমে যাওয়া বলে থাকি। মেডিকেলের ভাষায় একে বলে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’।

রক্তের লবণ দেহের রক্তচাপ, তরলের ভারসাম্য, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লবণ কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে মস্তিষ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

কেন লবণ কমে যায়

খুব বমি বা পাতলা পায়খানা হলে লবণ কমে যেতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ রকম সমস্যা বেশি হয়। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে লবণ কমে যায়। কিছু ওষুধ সেবন করলে শরীর থেকে লবণ-পানি বের হয়ে যায়। কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা যকৃতের কিছু রোগে শরীর যখন ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন করতে পারে না, তখনো লবণের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া মস্তিষ্কের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক, টিউমার ইত্যাদিতে মস্তিষ্কের লবণ–পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী একটি বিশেষ হরমোন নিঃসরণে সমস্যা দেখা দিলেও লবণ কমে যেতে পারে।

লবণ কমে গেলে কী করা উচিত

মনে রাখতে হবে, লবণ কমে যাওয়া একটি জরুরি মেডিকেল পরিস্থিতি। লবণ কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক রক্তের ইলেকট্রোলাইটস পরীক্ষা করে লবণ কমে যাওয়া নিশ্চিত করেন এবং কত মাত্রায় কমে গেছে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করেন। লবণের মাত্রা দ্রুত পরিবর্তন হলে রোগীর মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এ কারণে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা হাসপাতালের অধীন চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। খুব দ্রুত এটি আগের অবস্থায় আনা যাবে না, ধীরে ধীরে আনতে হবে। আবার মৃদু, মাঝারি ও তীব্র মাত্রার ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি ভিন্ন।

কিছু রোগীর যদি বারবার লবণের ঘাটতি দেখা যায়, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি কারণ বের করাটাও জরুরি। লবণঘাটতির লক্ষণ দেখা দিলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে মুখে স্যালাইন খেতে হবে, ডায়রিয়া-বমির ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা স্যালাইন খেতে বা শিরায় নিতে শঙ্কাবোধ করেন। মনে রাখতে হবে, ডায়রিয়া বা বমি হলে যেকোনো রোগীকেই স্যালাইন খেতে হবে, নয়তো লবণ কমে যেতে পারে, এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

Saturday, August 3, 2024

অধিক রক্তক্ষরণ বন্ধ করার পদ্ধতিঃ

 


*    সরাসরি চাপ প্রয়োগ;

*    আহত স্থান উত্তোলন করা (হৃৎপিন্ডের উপরে);
*    চাপ ব্যান্ডেজ;
*    রক্তচাপ বিন্দুতে চাপ প্রয়োগ

রক্তক্ষরণের প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
*    যদি প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তবে আহত অংশটি তুলে ধরুন এবং চারপাশে চেপে ধরুন যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত ক্ষরণ বন্ধ না হয়। 
*    কিছুক্ষণের জন্য চাপ বন্ধ করুন এবং রুমাল বা কাপড় জাতীয় কোন কিছু দিয়ে পেঁচিয়ে ধরুন।
*    বাহিরে কোন কিছু লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে, সংক্রমন রোধে ক্ষতস্থান ঢেকে রাখুন।



Wednesday, May 29, 2024

ঘরোযা উপায়ে ত্বকের এলার্জি দূর করুন

 মুখের ত্বকের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

অলিভ অয়েল
অতিরিক্ত ভার্জিন জলপাই তেল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে আশ্চর্যজনক ভাবে কাজ করে। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এ তেল চুলকানি হ্রাস করে।

নিম পাতা
নিম পাতা ত্বকের লালচেভাব, ফোলাভাব এবং চুলকানি দূর করতে দারুন কাজ করে। বেশ কয়েকটি নিম পাতা পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

কোল্ড শাওয়ার
ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল ত্বকের জ্বালা এবং এলার্জি হ্রাস করতে সহায়তা করে। একটি শীতল ঝরনা আপনার রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত করতে সহায়তা করে এবং হিস্টামিন বেরোতে দেয় না। এটি অ্যালার্জির তীব্রতা এবং ত্বকের জ্বালাও হ্রাস করে।

তুলসি
তুলসিতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি রয়েছে যা ত্বকের চুলকানি হ্রাস করে। এক মুঠো তুলসি পাতা ভালো করে ধুয়ে নিন। পরে পাতাগুলো পেস্ট করে নিন। আক্রান্ত স্থানে পেস্টটি লাগিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। স্বস্তির জন্য দিনে কয়েকবার লাগাতে পারেন এই পেস্ট।

নারকেল তেল
শিশু এবং শিশুদের মধ্যে ত্বকের এলার্জির একটি নিরাপদ ঘরোয়া উপায় হলো নারকেল তেল। এক চা চামচ নারকেল তেল হালকা গরম করুন এবং এটি আক্রান্ত স্থানে লাগান। প্রায় ৩০ মিনিট রাখার পর হালকা গরম জলে ধুয়ে ত্বক শুকিয়ে নিন। নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত এটি দিনে ৩ থেকে ৪ বার ব্যবহার করুন।

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক ওষুধি এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে অনেক প্রাকৃতিক নিরাময়ের প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। এটি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটিকে গতি দেয় এবং প্রশস্ত স্বস্তি দেয়, এটি দেহের ত্বকের অ্যালার্জির অন্যতম সেরা প্রতিকার।

এজন্য পাতা থেকে এক চা চামচ জেল বের করুন বা কিনে নেয়া অ্যালোভেরা পণ্য থেকে এক চা চামচ জেল নিন। পরে আক্রান্ত স্থানে জেলটি সরাসরি ছড়িয়ে দিন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে রেখে এটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন এক নাগারে দিনে তিনবার প্রয়োগ করুন, ভালো ফল পাবেন।

Tuesday, May 28, 2024

ভয়াবহ রোগ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন

 



ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়


১. সবুজ চা (গ্রিন টি)
প্রতিদিন সবুজ চা পান করলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে। সবুজ চা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২. পাকা পেঁপে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পেঁপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেঁপে মানবদেহের প্রতিক্রিয়াশীল প্রোটিন 'সি' ও ইউরিক অ্যাসিড কমাতে ইতিবাচক সাহায্য করে।

৩. ওজন স্বাভাবিক রাখা

দেহের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্য দিয়ে শুধু ডায়াবেটিসই নয়; বরং আরও নানা ধরনের রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ কমে আসে।

৪. প্রচুর হাঁটাহাঁটি করা
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক সেরা ব্যায়ামগুলোর একটি হাঁটা। প্রতিদিন সকালে বা বিকালে অন্তত ৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই ডায়াবেটিসেরও ঝুঁকিও কমে আসবে।

৫. সালাদ খাওয়া
প্রতিদিন এক বাটি সালাদ খান। যার মধ্যে থাকবে গাজর, শসা, লেটুস, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি। প্রতিদিন দুপুরে বা রাতে ভারী খাবার খাওয়ার আগে এই সালাদ খেতে হবে। সালাদে এক চা চামচ ভিনেগারও যুক্ত করতে পারেন। ভিনেগার রক্তকে কমমাত্রায় সুগার শোষণে সহায়তা করে। আর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমবে।

৬. পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য খান
ওটমিল, বার্লি, ব্রাউন রাইস, ভুট্টা, বাজরা ইত্যাদি পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্যে আছে আঁশ, যা রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে সহায়ক। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে।

৭. কফি পান করুন
প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ কফি পান করলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসে ২৯ শতাংশ। তবে চিনি ছাড়া কফি পান করতে হবে। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এ কাজ করে।

৮. ফাস্টফুড পরিহার করা
ফ্রাইস, পিজ্জা, বার্গারের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, হজমে সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এসব খাবার দেহে ইনসুলিনের মাত্রায়ও ক্ষতিকরভাবে হেরফের ঘটিয়ে দিতে পারে, যা থেকে ডায়াবেটিসও হতে পারে।

৯. মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা
মাথাব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগও হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে। মানসিক চাপ থেকে নিজেকে সবসময় মুক্ত রাখুন। এতে আপনার দেহে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।

Sunday, May 26, 2024

আগুনে পুরলে কী করবেন ,আর কী করবেন না




আগুনে পুড়লে যা করবেন


সাধারণত হালকা পোড়া স্থান সম্পূর্ণ সেরে ওঠতে এক-দুই সপ্তাহ লাগে এবং এতে ক্ষত হয় না। ফার্স্ট ডিগ্রি ও সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নের ঘরোয়ার চিকিৎসার লক্ষ্য হলো- ব্যথা কমানো, ইনফেকশন ঠেকানো ও দ্রুত সারিয়ে তোলা।

পানি ঢালুন: শরীরের কোথাও হালকা পুড়ে গেলে পোড়া স্থানের ওপর প্রায় ২০ মিনিট ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে, তবে ফ্রিজের পানি নয়। তারপর পোড়া স্থানকে ত্বক সহনীয় সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।





ঠান্ডা সেঁক দিন: 
পোড়া স্থানের ওপর কোল্ড কমপ্রেস বা কাপড়ে পেঁচানো বরফের টুকরো ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখলে ব্যথা ও ফোলা উপশম হবে। ১০-১৫ মিনিট বিরতি নিয়ে প্রয়োজন পড়লে পুনরায় সেঁক দিতে পারেন। তবে খুব বেশি ঠান্ডা সেঁক দেবেন না, কারণ ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম লাগান: 
অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট বা ক্রিম পোড়া স্থানে ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে। পোড়া স্থানের ওপর ব্যাসিট্রাসিন বা নিওসপোরিন অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল অয়েন্টমেন্ট লাগাতে পারেন। তারপর জীবাণুমুক্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন।


অ্যালোভেরা জেল লাগান:
পোড়া স্থানের চিকিৎসায় অ্যালোভেরা এত বেশি কার্যকর যে, এটা বার্ন প্লান্ট হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। গবেষণায় প্রমাণিত যে, ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন ও সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন নিরাময়ে অ্যালোভেরা খুবই কার্যকর। অ্যালোভেরা প্রদাহ কমায়, রক্ত সংবহন বাড়ায় এবং ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঠেকায়। অ্যালোভেরার পাতা থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে জেল নিয়ে সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন। অথবা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কোম্পানির অ্যালোভেরা ক্রিম কিনেও ব্যবহার করতে পারেন।

মধুর প্রলেপ দিন:
মধু খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এটা কে না জানে? চমকপ্রদ তথ্য হলো, মধু ত্বকেও ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে, মৃদু পোড়া স্থানে মধুর প্রলেপ দিলে দ্রুত সেরে ওঠে। মধুতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বিনাশক শক্তি রয়েছে। এছাড়া প্রদাহও কমাতে পারে।

রোদ এড়িয়ে চলুন:
যথাসম্ভব পোড়া স্থানে সূর্যালোকের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ এড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। পোড়া ত্বক সূর্যের প্রতি খুবই সংবেদনশীল। তাই রোদে বের হলে পোড়া স্থানকে কাপড়ে ঢেকে নিন।

ফোসকা ফাটবেন না: 
ফোসকা চোখে পড়লে ফেটে ফেলতে ইচ্ছে হয়। ফোসকাকে তার মতো থাকতে দিন। এটা সময়মত নিজ থেকে ফেটে যাবে। আপনি ফেটে ফেললে ইনফেকশনের ঝুঁকি আছে। তবে ফোসকাকে উদ্বেগজনক মনে হলে চিকিৎসকের কাছে চলে যান।

ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করুন:
 
পোড়া স্থানে ব্যথা অনুভব করলে ওভার-দ্য-কাউন্টার (যেসব ওষুধ কিনতে প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন পড়ে না) ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন, যেমন- আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন। অবশ্যই বয়স অনুসারে সঠিক ডোজে ব্যবহার করতে হবে। এ সংক্রান্ত ধারণা না থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে হবে।



যা ব্যবহার করবেন না

পোড়া স্থানে মাখন, তেল, ডিমের সাদা অংশ ও টুথপেস্ট লাগাবেন না। এসবকিছু ক্ষতস্থান সারিয়ে তোলে জাতীয় ভুল ধারণার প্রচলন রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এসবের প্রয়োগে পোড়া স্থানের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। মাখন তাপ ধরে রাখে ও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটাতে পারে। তেলও তাপ ধরে রাখে, এমনকি নারকেল তেলও। ডিমের সাদা অংশ লাগালে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনের ঝুঁকি আছে। টুথপেস্ট ত্বককে উক্ত্যক্ত করার পাশাপাশি ইনফেকশনের উপযোগী করে তোলে।



যখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

ফার্স্ট ডিগ্রি বার্নের চিকিৎসা ঘরে করলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বললেই চলে। তবে সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নের চিকিৎসা ঘরোয়া উপায়ে করলেও বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজন আছে, কারণ ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যখন চিকিৎসক দেখাবেন-

* পোড়া স্থানের ডায়ামিটার ৩ ইঞ্চির বেশি হলে।

* মুখমণ্ডল, হাত, নিতম্ব ও কুঁচকিতে পুড়ে গেলে।

* পোড়া স্থানের যন্ত্রণা অসহনীয় লে বা দুর্গন্ধ ছড়ালে।

* উচ্চ মাত্রায় জ্বর আসলে।

* যদি মনে করেন যে থার্ড ডিগ্রি বার্ন হয়েছে।

* যদি পোড়ার মাত্রা বুঝতে না পারেন।

* সবশেষ টিটেনাস শট নিয়েছেন ৫ বছরের বেশি হলে।

Thursday, September 7, 2023

অজ্ঞান হলে লক্ষণসমূহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা


 মাথায় প্রয়োজনীয় রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে রক্ত চাপ কমে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ভয়াবহ দৃশ্য চোখে বা অন্য কোনভাবে ভয় পেয়ে অথবা দুঃসংবাদ শুনে হঠাৎ করে রক্ত চাপ কমে যায়, অসুস্থতাজনিত দুর্বলতার কারণেও এমন হতে পারে। অত্যাধিক ব্যাথা, স্নায়বিক আঘাত, তাপ বা গরম ইত্যাদি কারণেও অজ্ঞান হতে পারে। 

লক্ষণসমূহঃ
*    মুখ মন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যায়;
*    নাড়ি দুর্বল ও মন্থর হতে পারে;
*    শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর গতিতে চলতে পারে;

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
*    রোগীকে ছায়াতে ও মুক্ত বাতাসে রাখতে হবে। যাতে পর্যাপ্ত মুক্ত বাতাস রোগীর গায়ে লাগে তার ব্যবস্থা করতে হবে;

*    রোগীকে আরামদায়কভাবে শুঁইয়ে দিতে হবে;
*    রোগীর কাপড়ের সকল বাঁধন ঢিলা করে দিতে হবে; *    রোগীকে ঠান্ডা লাগলে চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে; 
*    অত্যাধিক গরমে জ্ঞান হারালে, রোগীকে বাতাস করতে হবে, মাথায় পানি ঢালা যেতে পারে, শরীর ঠান্ডা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে;
*    কোন অবস্থাতেই অজ্ঞান রোগীর মুখে কোন তরল অর্থাৎ পানীয় জাতীয় কিছু দেয়া যাবে না; 
*    রোগীর পাশে হাঁটু গেঁড়ে বসুন। কপালে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে মাথাটি কাত করে দিন। তার মুখটি হাঁ করে আঙ্গুল দিয়ে মুখের ভিতরে লালা পরিষ্কার করে নিয়ে আসুন;
*    যদি সে শ্বাস নিতে না পারে, তবে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করুন;
*    লক্ষ্য করুন নিঃশ্বাসের সঙ্গে তার বৃক উঠানামা করছে কিনা;
*    যদি রোগী শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে, তবে ১০ মিনিট তার শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ্য করুন এবং তার হার্টবিট বোঝার চেষ্টা করুন;
*    এরপর তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে অথবা হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করুন; 
*    জ্ঞান আসার পর যখন রোগী সুস্থবোধ করবে তখন তাকে খাবার দিতে হবে ও পানি পান করাতে হবে।

Sunday, September 3, 2023

লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মতো মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দূর করুন!


মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথা যাদের আছে তারা বোঝেন মাথা ব্যথা হলে কি অবস্থা দাড়ায়। অথচ খুব সহজ একটি জিনিস লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মতো মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দূর করা সম্ভব। কিভাবে এটি করতে হবে জেনে নিন।
যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা আছে কেবলমাত্র তারাই জানের মাথা ব্যাথা হলে কি অবস্থা সৃষ্টি হয়। একবার মাথা ব্যাথা শুরু হলে তা নষ্ট করে দিতে পারে আপনার পুরোটি দিন। শুধু তাই নয়, কারও কারও মাইগ্রেনের ব্যাথা সাধারণ পেইনকিলারে দূর হতেও চায় না। কি করবেন তারা? তাদের এক বিশাল উপকারে করতে পারে লবণ। কিভাবে ব্যবহার করবেন লবণ? আসুন সে বিষয়ে আমরা আজ জেনে নেই।
যারা মাইগ্রেনের ভুক্তভোগী তারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যেই মাইগ্রেন কমানোর অনেকগুলো উপায়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করে দেখেছেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মাইগ্রেনের ব্যাথা একবার শুরু হওয়ার পর আর কোনো রকম পেইন কিলারও কাজ করছে না। অনেকের আবার স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পেইন কিলারের ব্যবহারের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবে একটি সহজ পদ্ধতি লবণের ব্যবহার এতে ভালো কাজ করতে পারে আপনার।

লবণ ব্যবহার কার নিষেধ

প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকার লবণ ব্যবহার করা উচিত নয় কার কার। মাইগ্রেনের ব্যাথা যখন হয় তখন অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। লবণ ব্যবহারের ফলে তাদের রক্তচাপ আরও বেড়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবশ্য তারা মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতে সেলেরির জুস পান করতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে এমন এক ধরনের সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায় না আবার মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে।

কিভাবে লবণ ব্যবহার করবেন

লবণ ব্যবহার করে মাইগ্রেন কমাতে হলে অবশ্য সাধারণ মানের টেবিল সল্ট ব্যবহার না করে উচ্চমানের লবণ ব্যবহার করতে হবে। যেমন: হিমালায়ান ক্রিস্টাল সল্ট। এই লবণের বিশেষত্ব হলো এতে উপস্থিত রয়েছে ৮৪টি খনিজ উপাদান, ইলেক্ট্রোলাইট ও মৌল। এই লবণ শুধু যে মাইগ্রেন কমায় তাই নয়, বরং সেইসঙ্গে শক্তিশালী করে তোলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও। আবার শক্তি বাড়ায়, রক্তে সেরোটোনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে।

লবণ ব্যবহারের এই উপায়টি খুব সহজ। এক গ্লাস লেবুর রস (অথবা আপনার পছন্দের কোনো ফলের জুস নিন) এর মধ্যে বেশি করে লবণ দিয়ে তৈরি করুন একটি মিশ্রণ। তখন তা পান করে ফেলুন। দেখবেন মাইগ্রেনের ব্যাথা দূর হয়ে যাবে একেবারে ম্যাজিকের মতো।

আগেই বলা হয়েছে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে সেসব রোগীদের অবশ্যই লবণের এই মিশ্রণ পান করা উচিত নয়। আবার যাদের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারাও লেবু অথবা এই প্রকৃতিকর অ্যাসিড ধরণের জুস পান করা হতে বিরত থাকতে হবে।

তাই সাধারণভাবে যাদের মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথা রয়েছে তারা উপরোক্ত নিয়মে মাথা ব্যাথা শুরু হলে লবণ পানি খেয়ে উপকার পেতে পারেন।

Thursday, August 31, 2023

গোড়ালি ব্যথা কমাতে যা করতে পারেন

 

পায়ের পাতা ও গোড়ালির ব্যথার অন্যতম কারণ প্ল্যান্টার ফাসাইটিস। প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া হলো পায়ের পাতার একধরনের মোটা ব্যান্ড বা পর্দা। এর মাধ্যমে গোড়ালির হাড় পায়ের পাতার অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সেই ব্যান্ডটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা প্রদাহ হলে তাকে প্ল্যান্টার ফাসাইটিস বলে।

প্ল্যান্টার ফাসাইটিসের ফলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা। দেখা যায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যথায় মেঝেতে পা ফেলতে পারছেন না। পায়ের পাতার ওপর ভর করে দাঁড়ানোর পর মনে হচ্ছে যেন পায়ের নিচে কাটা বিঁধে আছে। কয়েক কদম কষ্ট করে হাঁটার পর ব্যথাটা কমে আসে। হাঁটাচলা দৌড়ানো বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ব্যথাটা বেড়ে যেতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যথার কোনো কারণ থাকে না। তবে হাঁটতে বা দৌড়াতে গিয়ে বা খেলাধুলার সময় হঠাৎ ব্যথা লাগলে এমনটা হতে পারে। উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি হলে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে, দীর্ঘ সময় ধরে হিল জুতা পরে থাকলে এটা হতে পারে। গোড়ালির হাড় বৃদ্ধি (ক্যালকানিয়াল স্পার), আর্থ্রাইট্রিস এবং ডায়াবেটিস এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্যথা কমাতে যা করা দরকার

রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের ইতিহাসই যথেষ্ট। তবে কারণ অনুসন্ধানে এক্স-রেসহ আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়। ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। খালি পায়ে হাঁটা বাদ দিতে হবে। উঁচু হিলের ও শক্ত সোলের জুতা পরা বাদ দিতে হবে। নরম সোলের জুতা বা ডক্টরস শু ব্যবহার করা ভালো। অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে।
এ ছাড়া পায়ের পাতায় গরম সেঁক দিলে উপকার পাবেন। আইসপ্যাক দিয়ে গোড়ালির নিচে দিনে দুই থেকে তিনবার সেঁক দেওয়া যায়। ডিপ ফ্রিজে রাখা পানির বোতল পায়ের নিচে বারবার রোল করে দিলে ভালো অনুভূত হয়। গোড়ালির ওপর চাপ কমাতে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। তবে ব্যথা না কমলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Friday, August 18, 2023

নাকে রক্ত আসলে করণীয়


 *    তাকে একটি বেসিনের সামনে নিয়ে মিনিট দশেক নাকে চাপ দিয়ে রাখুন। রক্ত ভিতরে টেনে নেয়া হতে বিরত থাকুন;

*    এরপরও যদি রক্ত বন্ধ না হয়, তবে একটি ভেজা কাপড় তার নাকে ২ মিনিটের জন্য চেপে ধরুন এবং এরপর আবার নাকে চাপ দিয়ে রাখুন; 
*    কোনভাবেই নাক খোচাবেন না বা নাক পরিষ্কার করবেন না;
*    ডাক্তারের কাছে উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য প্রেরণের ব্যবস্থা নিন।

Wednesday, August 2, 2023

হঠাৎ ছেঁকা লাগলে কী করবেন

 

আগুন বা গরম বস্তু থেকে হঠাৎ ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। গরম বস্তু, গরম তরল কিংবা গরম বাষ্পের সংস্পর্শে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বাড়িতে, হতে পারে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সাইলেন্সারের স্পর্শে, এমনকি বনভোজনের মতো আনন্দময় মুহূর্তেও। যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুর্ভোগ কমানো যায় অনেকাংশে। তাই দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে যেমন খেয়াল রাখতে হবে; তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে গেলে কী করতে হবে, তা–ও জানা থাকতে হবে।

পানিই যখন বন্ধু

ত্বকের কোনো অংশে গরম বস্তু, গরম তরল কিংবা গরম বাষ্পের স্পর্শ লেগে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত স্থানটি পানির প্রবাহে রাখতে হবে একটানা ৩০ মিনিট। কাজটি করতে হবে ধৈর্য নিয়ে। শরীরের কষ্ট উপশম হয়েছে বলে মনে হলেও পানির প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। কলের পানিতে রাখতে পারলে সবেচেয়ে ভালো হয়। তবে পানির প্রবাহ না পেলে বোতল বা অন্য পাত্র থেকে পানি ঢালতে হবে ৩০ মিনিট। লোকালয় থেকে দূরেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যেখানে হয়তো ওই মুহূর্তে ৩০ মিনিট ধরে প্রবাহিত করার মতো পর্যাপ্ত পানি না–ও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটি পাত্রে অল্প পানি নিয়ে তাতে আক্রান্ত স্থান ডুবিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট।

পরবর্তী যত্ন

১ শতাংশ সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিম লাগিয়ে নিন আক্রান্ত স্থানে। ক্রিমের পুরু স্তর তৈরি করে ফেলতে হবে। ১২ ঘণ্টা অন্তর লাগাতে হবে, যত দিন না ক্ষত সেরে যায়। ক্রিম ধুয়ে গেলে বা মুছে গেলে আবার লাগিয়ে নিতে হবে। এই ক্রিমের পরিবর্তে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিমও লাগাতে পারেন। ছোটখাটো ক্ষত এই চিকিৎসায় সেরে যায়। ব্যথা বা জ্বালাপোড়া থাকলে প্রয়োজনমতো প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে

Monday, July 31, 2023

হেপাটাইটিস প্রতিরোধে যা করতে হবে

 


ভাইরাল হেপাটাইটিস বা ভাইরাসের কারণে যকৃতের প্রদাহ একটি বড় সমস্যা। প্রতিবছর বিশ্বে অসংখ্য মানুষ এই রোগে মারা যায়। অথচ আমরা সচেতন হলে এই ভাইরাল হেপাটাইটিস থেকে মুক্ত থাকতে পারি। সাধারণত ভাইরাল হেপাটাইটিসের কারণ হিসেবে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস আমাদের পরিচিত। এ ছাড়া আরও কিছু ভাইরাস আছে।

হেপাটাইটিস এ ভাইরাসটি পানি ও খাবারবাহিত ভাইরাস। এই ভাইরাসে শৈশবেই সাধারণত হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। বেশির ভাগ সময়ই মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন খাবারে অরুচি, বমি, চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হওয়া ইত্যাদি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে হওয়া হেপাটাইটিস তেমন চিকিৎসা ছাড়াই এক-দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। এরপরও প্রয়োজনে নিকটবর্তী রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের টিকা আছে। শিশুদের টিকা দিলে এই রোগ আর হবে না।

হেপাটাইটিস বি মারাত্মক ভাইরাস। এটি সাধারণত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। তা ছাড়া একই ইনজেকশন সিরিঞ্জ অনেকে ব্যবহার করলে বা অনিরাপদ যৌনমিলনে এটা ছড়াতে পারে।

এটা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই রকম সংক্রমণ ও প্রদাহ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ থেকে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হতে পারে। এ রোগের আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। এ সমস্যায় অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কার্যকর টিকা আছে, যা এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

হেপাটাইটিস সি–ও মারাত্মক ভাইরাস। এটাও রক্তবাহিত রোগ। অনিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন মূলত এ রোগের কারণ। এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। আজকাল এই রোগের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। এই ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হতে পারে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা আসেনি।

দরকার সচেতনতা

হেপাটাইটিস রোগ প্রতিরোধে যেকোনোভাবে বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। যেখানে–সেখানে খাবার বা পানি খাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই।

মাদক থেকে মুক্ত থাকতে হবে। নিরাপদ রক্ত নিতে হবে। অনিরাপদ যৌনমিলন এড়িয়ে চলতে হবে। ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নিতে হবে। জন্ডিস হলে হেপাটাইটিসের চিকিৎসায় নিকটবর্তী রেজিস্টার্ড চিকিৎসক অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Sunday, July 30, 2023

হাড় ভাঙ্গার লক্ষন ও করণীয় ব্যবস্থা



*    হাড় ভাঙ্গা স্থানে ভীষণ ব্যথা থাকবে; 
*    রোগী ভাঙ্গা স্থানে ষ্পর্শ করতে দিবে না;
*    রোগীর ভাঙ্গা স্থান ফুলে যাবে;
*    রোগীর ভাঙ্গা অংশে স্বাভাবিক শক্তি লোপ পাবে;
*    দেহে যে স্থানের হাড় কেবল মাত্র চর্ম দ্বারা আচ্ছাদিত সেখানের অস্থি ভঙ্গ হলে তা বাহির থেকে ষ্পর্শ করলে উঁচু-নিচু বোধ হবে; 
*    অনেক সময় ভাঙ্গা জায়গায় হাড় ঘট ঘট শব্দ করে।

করণীয় ব্যবস্থাঃ
*    ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করতে সচেষ্ট হোন;
*    অবস্থার অবনতি রোধে আঘাত প্রাপ্ত অংশ উপরে উঁচু করে রাখুন;
*    আঘাত প্রাপ্ত অংশ টুকরা কাঠের সাহায্যে সংযোগ করতে হবে;
*    রক্ত চলাচলে ব্যঘাত ঘটলে বা ব্যথা হলে রক্ত চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে;
*    দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করতে হবে। 

বর্জনীয় বিষয়ঃ
*    কখনও ভাঙ্গা অংশ টানা হেঁচড়া করা উচিত নয়; 
*    ভাঙ্গা অংশ সহজে সম্ভব না হলে যথাস্থানে স্থাপনের চেষ্টা করবেন না;
*    অপ্রয়োজনে আহতকে নাড়া-চাড়া করবেন না;
*    আহতকে হাসপাতালে পাঠাতে দেরী করবেন না। 

Monday, July 24, 2023

কেটে গেলে করণীয়


 *    ডেটল বা স্যাভলন দ্বারা জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন;

*    যদি ৫ মিনিটে রক্ত পড়া বন্ধ না হয় তবে একটি বরফ প্যাক ক্ষতটির উপর কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে রাখুন;
*    ড্রেসিং করে জায়গাটি বেঁধে রাখুন এবং পরিষ্কার রাখুন;
*    ডাক্তারের কাছে উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য প্রেরণের ব্যবস্থা নিন।

Wednesday, May 31, 2023

বিষক্রিয়া কী ? বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা


 বিষক্রিয়া অত্যন্ত মারাত্মক। রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে/হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে অথবা ডাক্তার ডাকতে হবে। যে পাত্র থেকে (ঔষধ হলে তার মোড়ক) দ্রব্য খেয়ে বিষক্রিয়া হয়েছে সম্ভ্যাব্য ক্ষেত্রে সেটি ডাক্তারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিভিন্নভাবে মানুষের বিষক্রিয়া হতে পারে। যেমন-  

*    পান করার মাধমে;
*    শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে;
*    বিষাক্ত পদার্থের স্পর্শে;
*    ইনজেকশনের মাধ্যমে।

বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
*    রোগী যদি অজ্ঞান অবস্থায় থাকেঃ
*     বমি করানো যাবে না;
*     শক্ত বিছানায় চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে যাতে পেটে চাপ না পড়ে;
*     মাথা এমনভাবে কাৎ করে দিতে হবে যেন শ্বাস নিতে কষ্ট না হয়; 
*     রোগী যদি নিজে থেকেই বমি করে তবে তাকে আরামদায়ক পজিশনে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে করে তার বমি কন্ঠ নালীতে আটকে না যায়; 
*     শ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে।

*    রোগী সজ্ঞান অবস্থায় থাকলেঃ
*    রোগীকে বমি করাতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি খাইয়ে গলায় আংগুল দিয়ে বমি করাতে হবে;
*    বিষ যদি দাহ্য পদার্থ হয় তবে বমি করানো যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

Sunday, November 27, 2022

পুড়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা

 


পোড়া বিভিন্ন প্রকার হতে পারেঃ

*    শুকনা পোড়া    ঃ আগুন বা উত্তপ্ত জড় পদার্থের স্পর্শে পুড়ে যাওয়া;
*    ভেজা পোড়া    ঃ উত্তপ্ত তরল পদার্থের স্পর্শে পুড়ে যাওয়া;
*    রাসায়নিক পোড়া    ঃ রাসায়নিক পদার্থের স্পর্শে পুড়ে যাওয়া।

পোড়া মাত্রা ০৩ (তিন) প্রকারঃ
*    ১ম মাত্রা (১ংঃ উবমৎবব)    ঃ যখন চামড়া ঝলসে যায় বা লাল হয়ে যায়; 
*    ২য় মাত্রা (২হফ উবমৎবব)    ঃ যখন পুড়ে ফোসকা পড়ে;
*    ৩য় মাত্রা (৩ৎফ উবমৎবব)    ঃ যখন পুড়ে গিয়ে চামড়া ও মাংস গলে যায় বা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। 

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
*    দাহ্য বা ঝলসানো রোগীর ক্ষত স্থানে এমনভাবে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুঁয়ে ফেলুন যাতে পানি ধীরে ধীরে ক্ষতের উপর দিয়ে গড়িয়ে যায়, এভাবে যতক্ষণ ক্ষত স্থানের জ্বালা যন্ত্রণা না কমে এবং ক্ষত স্থানের গরম ভাব না কমে ততক্ষণ ঠান্ডা পানি দিতে হবে অথবা ক্ষতস্থানকে পানিতে ডুবিয়ে রাখুন;
*    ব্যাথা উপশমের জন্য অন্তত ১০ মিনিট এই অবস্থায় রাখুন;
*    মারাত্মক পুড়ে যাওয়া আহতের যদি জ্ঞান থাকে তবে তাকে বিরতি দিয়ে ঠান্ডা পানীয় খেতে দিন;
*    পরিষ্কার জীবানুমূক্ত ব্যান্ডেজ বা কাপড় দিয়ে ক্ষত স্থান হালকা করে বেঁধে দিতে হবে; 
*    আহত ব্যক্তি যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তবে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থাসহ কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে;
*    আহত ব্যক্তির পোড়া জায়গায় ঠান্ডা করার জন্য বার্নল, ডারমাজিন মলম অথবা যে কোন বার্ণ অয়েন্টমেন্ট লাগানো যেতে পারে। ৩য় মাত্রার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ঔষধ লাগানো যাবে না;  
*    যেকোন লোশন, মালিশ বা তৈল ব্যবহারে বিরত থাকুন; 
*    ফোস্কা পড়লে কোন ফেস্কা গলানো যাবে না। পোড়া অংশে হাত লাগানো যাবে না; 
*    ৩য় মাত্রার ক্ষেত্রে পোড়া কাপড় শরীরে লেগে থাকলে তা টেনে উঠানো যবেনা। বাড়তি কাপড় কেটে ফেলতে হবে; 
*    ৩য় মাত্রার ক্ষেত্রে ক্ষতস্থান পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে; 
*    প্রচুর স্যালাইন পানি খাওয়াতে হবে; 
*    এরপর তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে অথবা হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করুন। 

পরিধেয় কাপড়ে আগুন ধরলেঃ
*    অগ্নি নির্বাপক দ্বারা আগুন নিভিয়ে ফেলুন বা মোটা কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরুন যাতে আগুন নিভে যায়;
*    ঢিলা-ঢালা কাপড় হলে খুলে ফেলুন। কিন্তু যে সব কাপড় পোড়ার উপরে লেগে আছে তা খুলবেন না; 
*    পোড়া অংশের উপরে ঠান্ডা পানি ঢালুন, ভুলেও পোড়া অংশে ঘষা দিবেন না; 
*    তুলা ছাড়া অন্য কোন কাপড় দিয়ে পোড়া অংশটিকে ঢেকে রাখুন; 
*    কি পরিমাণ আঘাত পেয়েছে তা বুঝে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করুন।