Showing posts with label বৃদ্ধদের যত্ন পরামর্শ. Show all posts
Showing posts with label বৃদ্ধদের যত্ন পরামর্শ. Show all posts

Monday, July 15, 2024

ডেঙ্গু – প্রতিরোধ ও সুরক্ষা

 

 

ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগ। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

  • জ্বর হওয়া
  • অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা
  • চোখের চারপাশে ব্যাথা
  • পেসিতে ও হাড়ের গিটে ব্যাথা
  • বমি ও বমি বমি ভাব
  • ত্বকে লাল ছোপ ছোপ দাগ
  • নাক থেকে রক্তপাত

ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম ১০ দিনের মধ্যে এই লক্ষণগুলি দেখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগে শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ।

ডেঙ্গুর জন্য চিকিৎসা

  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ
  • চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা দরকার
  • ডাক্তারের দেওয়া টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিৎ
  • নিজে থেকে ঔষুধ খাওয়া উচিৎ নয়
  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষুধ খাওয়া উচিৎ নয় এগুলি রক্তকে পাতলা করে দেয়

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে

  • ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় না থাকার চেষ্টা করুন
  • বাড়িতে মশারি, মশা তাড়ানোর ঔষধ ব্যবহার করুন
  • বাইরে যাওয়ার সময় ফুলহাতা জামা ব্যবহার করুন
  • মোজা পরুন
  • জানালায় নেট লাগান অথবা দরজা জানালা বন্ধ করে রাখুন
  • এয়ারকন্ডিশন থাকলে ব্যবহার করুন
  • ডেঙ্গুর লক্ষণ থাকলে ডাক্তার দেখান

 ডেঙ্গু রোগীর যত্ন

  • তরল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ। যেমন- পরিষ্কার জল, আখের রস,  ডাবের জল, লেবুর জল, গ্রীন টি, কমলালেবুর রস ইত্যাদি।
  • দুধ জাতীয় ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিৎ
  • নিরামিষাশীদের জন্য শাকসবজি ও ফল খাওয়া দরকার
  • তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
  • সঠিক পরিমাণ প্রোটিন খান। মাছ, মাংস, ডিম এবং সয়াবিন, চিস,পনির জাতীয় খাবার খান।

 

 

 

Sunday, August 20, 2023

লিভারের সুরক্ষায় আখের রস

 


লিভারের সুরক্ষায় আখের রস

লিভারের সুরক্ষায় আখের রস

একটু গরম পড়লেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা মেলে আখের রস বিক্রির তোড়জোর। তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহযোগিতা করে বলে এই রস পান করতে কখনো কখনো মানুষের জটলা পড়ে যায়। অনেকে আবার বোতলে ভরে বাড়িতেও নিয়ে যান। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক আখের রসের উপকারিতা-

১. আখের রস দেহে বিলুরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং লিভারের সুস্থতায় কাজ করে।

আর এ কারণেই অনেক আগে থেকেই জন্ডিসের আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে আখের রস পান করার প্রচলন রয়েছে।

২. আখের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। এই পটাশিয়াম অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা হজমে সহায়তা করে এবং হজম সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে।

৩. আখের রস প্রাকৃতিক অ্যাল্কালাইন যা অ্যান্টিবায়োটিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কিডনির সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

এছাড়াও আঁখের রস পানের অভ্যাস বুক জ্বালা পোড়া ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ এবং প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে।

৪. কিডনি, হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, চোখ ও পাকস্থলী ইত্যাদি কার্যক্ষম রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বিপাক ও হজমক্রিয়া স্বাভাবিক ও সুস্থ রাখে।

৫. রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ফলে ডায়াবেটিক রোগীরাও পান করতে পারেন।

৬. আখের রস ক্যান্সার প্রতিহত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আখের রসে বিদ্যমান ফ্লেভোনস দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি ও ছড়ানো প্রতিরোধ করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। আখের রসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।

Sunday, July 16, 2023

যা খেলে অকালে চুল পাকা থামাতে পারবেন

 

সাধারণত বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চুলে পাক ধরতে শুরু করে। তবে সেটা তরুণ বয়সে নয়, বরং ৪০ পার হওয়ার পর। আমাদের শরীরে ত্বকের রং নির্ধারণ করে যে পিগমেন্ট সেল, তা থেকে মেলানিন নামের একধরনের রঞ্জক কণিকা উৎপাদিত হয়। এই মেলানিনের কারণেই চুলের রং কালো হয়। শরীরে যখন মেলানিনের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তখন থেকেই চুল পাকতে শুরু করে। চুল পাকার মূল কারণ এই মেলানিনের অভাব। এ ছাড়া দুশ্চিন্তা, রাতজাগা, ভিটামিনের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে চুল পাকতে শুরু করে। 

সমাধান কী

অল্প বয়সে চুল পাকার সমাধান হতে পারে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ। শরীরে মেলানিনের উৎপাদন বাড়াতে কিংবা ভিটামিনের অভাব কমাতে বড় প্রভাব রাখবে যেসব খাবার, তা জেনে নেওয়া যাক এখানে।

শাক

শাকে আছে প্রচুর ফলিক অ্যাসিড, যা শরীরে মেলানিনের অভাব দূর করে। নিয়মিত শাক, মেথি, মটরশুঁটি চুল পাকতে বাধা দেয়।

ডিমের কুসুম

ডিমের কুসুমে আছে প্রচুর পরিমাণ বি১২ ভিটামিন। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা ও বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে ভিটামিন বি১২। অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকলে চুল পাকা রোধে ডিমের কুসুম হতে পারে ভালো সমাধান।

দুগ্ধজাতীয় খাবার

দুধের তৈরি যেকোনো খাবার, যেমন ছানা, পায়েস কিংবা এক গ্লাস খাঁটি দুধ কমিয়ে দিতে পারে আপনার চুল পাকার আশঙ্কা। দুধে থাকা ভিটামিনগুলো চুল যেমন শক্ত করে, তেমনি পাকার হাত থেকে সুরক্ষাও দেয়।

জিংকসমৃদ্ধ খাবার

প্রকৃতিতে পাওয়া জিংকসমৃদ্ধ খাবার চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। বিষয় করে কুমড়া, তরমুজ–জাতীয় খাবারে প্রচুর জিংক থাকে। চুল কালো রাখতে বেশ উপকারী জিংকসমৃদ্ধ খাবার।

কপারসমৃদ্ধ খাবার

সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছ, তিল, গম, গরু ও খাসির মাংসে আছে প্রচুর পরিমাণে কপার। এই কপার শরীরের মেলানিন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই অকালে চুল পাকা রোধ করতে কপারসমৃদ্ধ খাবার খান।

দুশ্চিন্তা কম করুন

অসময়ে চুল পাকার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে দুশ্চিন্তা। তাই চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকার। বাড়তি চাপ যতটা এড়ানো যায়, ততই মঙ্গল। মনে রাখবেন, যত বেশি চাপ নেবেন, তত বাড়বে চুল পাকার আশঙ্কা।

 

 

Saturday, July 1, 2023

ঘাড় ও পিঠের মেদ সমস্যা | ৫টি ব্যায়াম জেনে ধরে রাখুন ফিটনেস

পিঠের মেদ সমস্যা - shajgoj

১. ব্যাক এক্সটেনশন এক্সারসাইজ

ঘাড় ও পিঠের চর্বি কমাতে ব্যাক এক্সটেনশন এক্সারসাইজ - shajgoj.com

ফ্লোরে পেটের উপর শুয়ে মুখ নীচের দিকে রেখে হাত সাইডে কোমরের পাশে রাখুন। আপনার মাথা ও বুক উঁচু করার চেষ্টা করুন। খুব প্রেসার নিয়ে করবেন না। এভাবে ১০-১৫ সেকেন্ড থাকুন। তারপর মাথা ও কাঁধ নামিয়ে ফেলুন। দিনে ২০-২৫ বার করে করুন।

২. লেগ এন্ড আর্ম এক্সারসাইজ

ঘাড় ও পিঠের চর্বি কমাতে লেগ এন্ড আর্ম এক্সারসাইজ - shajgoj.com

পেটের উপর শুয়ে থাকুন বা উঁচু করে রাখুন। মাথা উঁচু করুন। একহাত মেঝে থেকে উপরে রাখুন। সাথে সাথে বিপরীত পাশের পাও উপরে তুলুন। এভাবে ৫-৬ সেকেন্ড রাখুন। তারপর নামিয়ে ফেলুন। এভাবে ১০-১৫ বার করুন।

৩. ব্রিজ এক্সারসাইজ

ঘাড় ও পিঠের চর্বি কমাতে ব্রিজ এক্সারসাইজ - shajgoj.com

পিঠের উপর শুয়ে থাকুন। হাঁটু ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁকিয়ে ধরুন এমন ভাবে যাতে পায়ের পাতা নীচে মেঝেতে লেগে থাকে। নিতম্ব উঁচু করে ধরুন যাতে পিঠ সোজা লাইনে থাকে। এই অবস্থায় ১০-১৫ সেকেন্ড থাকুন এবং ধীরে ধীরে আবার শরীর মেঝেতে রাখুন এভাবে ২০-৩০ বার করুন।

৪. লোয়ার ব্যাক এক্সটেনশন এক্সারসাইজ

ঘাড় ও পিঠের চর্বি কমাতে লোয়ার ব্যাক এক্সটেনশন এক্সারসাইজ - shajgoj.com

এই এক্সারসাইজ খুবই সহজ, আপনার শুধু দরকার পরিষ্কার মেঝে। আপনি টিভি দেখে দেখেও এটি করতে পারেন। মেঝেতে ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে (পেটের উপর) মাথার পেছনে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে বুক সহ মাথা উঁচু করার চেষ্টা করুন। মুখ নীচের দিকে থাকবে। এভাবে ১০ মিনিট করে দিনে ৩ বার করুন।

৫. ক্যাট এন্ড ক্যামেল এক্সারসাইজ

ঘাড় ও পিঠের চর্বি কমাতে ক্যাট এন্ড ক্যামেল এক্সারসাইজ - shajgoj.com

হাত ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসুন। নিঃশ্বাস নেয়ার সময় পিঠ উটের পিঠের মত বাঁকিয়ে নিন (বাঁকানো অংশ উপরের দিকে মুখ করে থাকবে) ও মাথা উঁচু করে ধরুন। এভাবে ৫ সেকেন্ড থাকুন। নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ “U” এর মত আকৃতি অর্থাৎ বিড়ালের পিঠ টান দেয়ার মত করে মাথা ও বুক নীচে নামান। এভাবে পাঁচ সেকেন্ড থাকুন। দিনে ১০-১৫ বার এই এক্সারসাইজ করুন।

ঘাড় ও পিঠের চর্বি কমাতে ডায়েট প্ল্যান

ফ্যাট খাবারের বদলে প্রচুর পরিমাণে শাক সবজি খান। কেটে বা জুস করে দুই ভাবেই খেতে পারেন। কেটে খেলে বেশি ভালো। পাশাপাশি আপনি প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন। ফ্যাট শরীরের জন্যে দরকারও বটে। তাই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খান। ওমেগা ৩ এর মত ফ্যাট খান। ভেজিটেবল তেল খেলে ভালো। ফ্রেশ মাছ ও মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুন। ব্যাকন, সসেজ বা লাঞ্চ মিটের বদলে ফ্রেশ মাংস খান অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। কারণ তাতে ফুড এডিডিটিভ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটই বেশি থাকে। যখনই সম্ভব হরমোন ফ্রি মাংস খান। সাদা ময়দা, সাদা চালের গুঁড়া বা ইনস্ট্যান্ট যবের গুঁড়ার বদলে বাদামি চাল, হাতে গুঁড়া করা যব বা আটা খান। ফাইবার (আঁশ জাতীয়) সমৃদ্ধ খাবার খান।

এই তো বেশ জেনে গেলেন ঘাড় ও পিঠের মেদ কমানোর ব্যায়ামের পাশাপাশি ডায়েট প্লানটাও। এক্সসারসাইজগুলো নিয়মিত করুন, সুস্থ থাকুন।

Monday, May 1, 2023

বয়স্কদের জন্য খুব জরুরি এই পাঁচ খাবার

 


পরিবারে বয়স্কদের প্রতি একটু বেশি যত্নবান হতে হয়। কারণ নিজের প্রতি খেয়াল রাখার ক্ষমতা তাদের কম থাকে। তাছাড়া বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তারা নানান রকম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

তাই প্রবীণদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবার বিভিন্ন রোগব্যাধি প্রতিরোধ করে। সঠিক খাবার নির্বাচন অস্টিওপরোসিস, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ সময় বেশি সবজি, ফল, ফ্যাট ফ্রি ও লো ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে মাছ, মুরগির মাংস, সবজির তেল, বাদাম ইত্যাদি। সোডিয়াম, চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে।

প্রবীণ বয়সে শরীরের জন্য উপকারী কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো- 

> দই ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। এটি হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে আপনার ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে অর্থাৎ দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হলে দই খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

> সবুজ শাক-সবজি আয়রনের ভালো উৎস। তাই বেশি বেশি সবুজ শাক-সবজি খান।

> ছোট মাছ শরীরের জন্য উপকারী। এটি প্রবীণদের জন্য অন্যতম একটি খাবার।

> ডিমের মধ্যে রয়েছে ১৩ গ্রাম প্রোটিন। প্রতিদিন একটি ডিম খান। তবে ডিম কুসুমসহ নাকি কুসুম ছাড়া খাবেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

> গাজরের মধ্যে রয়েছে ১০০ গ্রাম ভিটামিন-এ। প্রবীণদের রোজকার খাবারে গাজর রাখতে পারেন। এটিও শরীরের উপকার করবে

Tuesday, November 22, 2022

হাঁটুন ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে

প্রকৃতিতে শীতের আমেজ। হেমন্তের শীতল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শীতের ভোরে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতেই বেশি ভালো লাগে। কিন্তু স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে প্রাতর্ভ্রমণের জন্য আদর্শ যেন শীতের ভোর। শীতের রোদ গ্রীষ্মের মতো প্রখর থাকে না বলে অস্বস্তি কম হয় এবং অনেকক্ষণ হাঁটলেও ক্লান্তি ভর করে না। এই মিষ্টি রোদ শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘ডি’-এর জোগান দেয়, যা ক্যালসিয়াম ধরে রেখে হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস আপনাআপনিই কমিয়ে দেবে আপনার শরীরের মেদ।
পরামর্শ:
সকালের চেয়ে বিকেলে হাঁটা বেশি ভালো। বিকেলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকে, মাংসপেশিগুলোর নড়াচড়া স্বাচ্ছন্দ্যে হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময় দেখা যায়, যাঁরা বিকেলে হাঁটেন তাঁরা অনিয়মিত। নানা কারণে বিকেলে হাঁটা হয়ে ওঠে না। সপ্তাহের সাত দিন না হলেও অন্তত পাঁচ দিন ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট করে হাঁটা উচিত। শীতের দিনের জন্য হাঁটার সময়-ধরন বদলের কোনো প্রয়োজন নেই। যাঁদের অ্যাজমা, হৃদ্রোগ রয়েছে তাঁরা বিকেলে হাঁটতে পারেন। হাঁটলে ঘাম হবেই, ঘাম মোছার জন্য সঙ্গে তোয়ালে রাখতে পারেন।

Tuesday, April 20, 2021

ওজন বুঝে পানি পান

 

ওজন কমাতে পানি: প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন যেমন- স্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরচর্চা, রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম এবং প্রচুর পানি পান করুন। এসবগুলোর মধ্যে পানি পান ওজন কমানোর ভালো ও সহজ উপায়। সঠিক পরিমাণে পানি পান দ্রুত ওজন কমায় কারণ এটা বিপাক প্রক্রিয়া বাড়ায় ও ক্ষুধার চাহিদা কমায়।

দৈনিক যতটা পানি প্রয়োজন: লিঙ্গ, কাজের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা বুঝে পানি পান করা উচিত। দৈনিক ৮ আউন্স কাপের ৮ গ্লাস পানি করা দরকার যা প্রায় ২ লিটারের সমান। তবে অনেক গবেষণাতেই দেখা গেছে দৈনিক চার লিটার পানি পান করা জরুরি।

খাবার আগে পানি পান: বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে, খাবারের ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে দুই কাপ পানি পান করা খাবারের চাহিদা কমায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত পানি পানের ক্ষতিকর দিক: মানব শরীর ৬৬ শতাংশ পানি দিয়ে তৈরি এবং যা বাড়তি ওজন থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। বিশ্বাস করা হয় যে, অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরে লবণের ভারসাম্যহিনতা দেখা দেয় এবং এর ফলে বমি, দুর্বল লাগা, পেট ফোলা ও মাথা ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।  

পানি পানের নির্দেশনা

- সকালে খালি পেটে দুই থেকে চার গ্লাস পানি পান করা ভালো।

- এয়ার-কন্ডিশন আছে এমন জায়গায় কাজ করেলে দৈনিক ২.৫ লিটারের বেশি পানি পান করার দরকার নেই।

- যদি শরীরচর্চা করে থাকেন তাহলে তা শুরু করার আগে ১৬ আউন্স পানি এবং ব্যায়াম চলার সময়ে ৪ থেকে ৮ আউন্স পানি এবং শরীরচর্চা শেষ করার পরে আরও ১৬ আউন্স পানি পান করুন।- গরমকালে নিজেকে আর্দ্র রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর পর পানি পান করা দরকার।

নিজের ওজন যাচাই

কতটুকু পানি পান করতে হবে তা আপনার ওজনের উপর নির্ভর করে।  যার ওজন যতবেশি তার পানির চাহিদা তত বেশি।

ওজনকে পাউন্ডে পরিবর্তন করুন যেমন- ১ কেজি সমান ২.২০ পাউন্ড

এরপর, ওজনকে ২/৩ দিয়ে ভাগ করলে বোঝা যাবে আপনার শরীরের জন্য কতটা পানি জরুরি।

উদাহরণ হিসেবে- যদি আপনার ওজন ২০০ পাউন্ড হয় তাহলে ২০০ কে ২/৩ দিয়ে ভাগ করলে প্রায় ১৩৩ আউন্স পাওয়া যাবে। এর মানে হল আপনার জন্য দৈনিক ১৩৩ আউন্স পানি পান করা প্রয়োজন।

কাজের মাত্রা

প্রতিদিন শরীরচর্চা করলে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। তাই ব্যায়াম করার সময় প্রতি ৩০ মিনিট পর পর ৩৫০ মি.লি. পানি পান করুন। যদি ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করেন তাহলে এর মধ্যে ১৭ আউন্স পানি পান করতে হবে। 

পানি পান বাড়ানোর অন্য উপায়পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন- ব্রকলি, গাজর, শসা, পিচ, পাম ও তরমুজ ইত্যাদি খেয়েও পানির চাহিদা পূরণ করা যায়। 

পূর্ণ বয়স্কদের জন্য ডায়েট

 বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা বলেন, “পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির পুষ্টির চাহিদা তার দৈনিক পরিশ্রম, দেহের ওজন ও স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। যারা অফিসে কাজ করেন অর্থাৎ চলাফেরা কম করা হয় তাদের তুলনামূলকভাবে কম ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত।”

তিনি জানান, একজন পুর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির কতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত তা তার শারীরিক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে। আর প্রোটিনের চাহিদা নির্ভর করে ব্যক্তির ওজনের ওপর।

প্রতি এক কেজি ওজনের জন্য এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করাই যথেষ্ট।

এছাড়াও ক্যালোরি গ্রহণের উপর ভিত্তি করে ভিটামিনের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি এক হাজার কিলো ক্যালরির জন্য .০৫ মি.গ্রা বি-১, ০.৬ মি.গ্রা বি ২ এবং ৬.৬ মি.গ্রা নায়াসিন ধার্য করা হয়। প্রতিদিন ২০ মি.গ্রা ভিটামিন সি গ্রহণ করলে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।৬০ কেজি ওজনের একজন পুর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক শক্তি চাহিদা প্রায় ২,৮০০ কিলো ক্যালরি। সেক্ষেত্রে খাবারের মোট ক্যালোরির ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ নানা রকমের কার্বোহাইড্রেইট থেকে, ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্নেহ পদার্থ থেকে এবং বাকিটুকু প্রোটিন থেকে গ্রহণ করা উচিত।

Saturday, April 17, 2021

গর্ভবতী অবস্থায় গ্যাস এবং পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রতিকার


 আপনার বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে আপনার জরায়ু প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে গ্যাস আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় গ্যাস্ট্রিক সমস্যার বেশ কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে যা আপনাকে এ থেকে স্বস্তি পেতে সহায়তা করে। এই পদ্ধতিগুলি আপনার অনাগত সন্তানের কোন ক্ষতিও করে না। স্বস্তি পেতে নিয়মিত এই প্রতিকারগুলি অনুসরণ করুন।

১. প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন

একদিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল পান করা হল লক্ষ্য। আপনি জলের পাশাপাশি অন্যান্য তরলগুলিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তবে আপনার সিস্টেমে একদিনে পর্যাপ্ত তরল ঢুকছে তা নিশ্চিত করুন।আপনি যদি ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) ভুগছেন, তাবে নিশ্চিত করুন যে এগুলিতে কম পরিমাণে FODMAP (প্রাকৃতিক শর্ট-চেইন কার্বোহাইড্রেট এবং চিনির অ্যালকোহল যেমন গ্লুকোজ বা ফ্রুকটোজ) রয়েছে। আপনি ক্র্যানবেরি, আনারস, আঙুর বা কমলালেবুর রস চেষ্টা করতে পারেন। কারণ এগুলিতে FODMAP-এর নিম্ন স্তর থাকে।

 

২. শারীরিক কার্যকলাপ

ব্যায়াম অনুশীলন এবং শারীরিক কার্যকলাপ আপনার প্রতিদিনের রুটিনের একটি অংশ হওয়া উচিত। প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘন্টা হাঁটার চেষ্টা করুন।এটি আপনার হজমের গতি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে পারে, আরও গ্যাস ও ফোলাভাবের লক্ষণগুলি হ্রাস করে। কোনও অনুশীলন শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।

৩.আপনার ডায়েট পরীক্ষা করুন

কোনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে তা জানতে খাবারের পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। কোন খাবারটি আপনার পেট ফাঁপার লক্ষণগুলির কারণ হয়েছে তা মনে রাখতে আপনি একটি ডায়েরিও লিখে রাখতে পারেন। খাদ্য (শাকসবজি) যা গ্যাস সৃষ্টি করে, তাতে বাঁধাকপি, আলু, স্প্রাউট এবং আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত।আপনি যদি আইবিএসে ভুগছেন তবে কোনও ডায়েট শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। স্বল্প FODMAP ডায়েট অত্যন্ত নিয়ন্ত্রক এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ না করে আপনার বাচ্চাকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই আপনার ডাক্তারের পরামর্শে পরিপূরক যোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করুন।

৪. প্রচুর পরিমাণে ফাইবার গ্রহণ করুন

কখনও কখনও এমন খাবারগুলি যা গ্যাসের লক্ষণগুলি বাড়িয়ে দেয় সেগুলির পরিবর্তন কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলিকে নিরাময় করতে পারে। ফাইবার হল এর একটি উপাদান: এটি আপনার অন্ত্রের জলের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে এবং মলগুলিকে সহজেই পাস করার জন্য সহায়তা করে।

৫. আপনার পা উঁচু করুন

যদি আপনার পেট ফুলে যায় বলে মনে হয় তবে এমন একটি স্থানে বসুন যেখানে আপনি পা উঁচুতে রাখতে পারেন। এটি আপনার পেটে আপনার শিশুর চাপ কমিয়ে দেবে এবং আপনার পেটের খাবারকে আরও অবাধে হজম করতে দেবে।

আপনার অন্ত্রে খাবার সঠিকভাবে হজম হতে দিতে গর্ভাবস্থায় আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা এড়িয়ে চলুন।

৬.অল্প করে খাবার খান

ক্রমবর্ধমান বাচ্চা আপনার পেটের বেশিরভাগ জায়গা নেয়, আপনার অন্ত্রে হজমের স্থান হ্রাস করে এবং বড় খাবার খাওয়ার ফলে আপনার খাদ্য হজম করা অসুবিধা হতে পারে, ফলে আপনি ফোলাভাব অনুভব করতে পারেন।