Monday, February 23, 2026

রমজানে সুস্থ থাকার খাদ্য তালিকা: সারাদিন শক্তি ও সতেজ থাকার সহজ গাইড

 

"রমজানে সেহরি ও ইফতার জন্য স্বাস্থ্যকর ও শক্তি দেয় এমন খাবারের তালিকা

রমজানে সুস্থ থাকার জন্য খাদ্য পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যাতে সারাদিন শরীর সতেজ থাকে, শক্তি ধরে থাকে এবং হজমের সমস্যা না হয়। নিচে একটি সহজ ও কার্যকর

 রমজান খাদ্য তালিকা ও গাইড দেওয়া হলো:

সেহরি  – দিনের জন্য শক্তি সংগ্রহ

সেহরি এমন খাবার হওয়া উচিত যা ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি ছড়ায়।

খাবারের উদাহরণ:

প্রোটিন: ডিম, দুধ, দই, পনির, মাখন-মাখানো বাদাম বা বীজ

জটিল কার্বোহাইড্রেট: ওটস, ব্রাউন রাইস, হোল গ্রেইন রুটি, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিডস

ফলমূল: কলা, আপেল, বেরি বা আঙুর

জল: প্রচুর পানি, চাইলে লেবুর পানি বা নারকেলের পানি

টিপস:

  • প্রচুর পানি পান করুন (কমপক্ষে 2-3 গ্লাস)

  • উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে দিনের মধ্যে তৃষ্ণা কম হয়

  • খুব তেল বা খুব মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন

🌙 ইফতার (Iftar) – হালকা শুরু, শক্তি পুনরুদ্ধার

রমজানের ইফতার হোক হালকা, যাতে হঠাৎ ব্লাড সুগার বা হজমের সমস্যা না হয়।

খাবারের উদাহরণ 

 শুরু করুন: খেজুর বা অন্যান্য শুকনো ফল + গরম পানি/লেবুর পানি

সুপ: মুগ ডাল বা সবজি স্যুপ

প্রোটিন: গ্রিলড বা বেকড চিকেন, ফিশ, ডাল, ছোলা

সাইড: সবজি সালাদ বা হালকা ড্রেসিং সহ সবজি

টিপস:

  • অতিরিক্ত ভাজা খাবার পরিহার করুন

  • ছোট ছোট অংশে খাওয়া শুরু করুন, পরে প্রধান খাবার খেতে পারে 

⚡ দিনের মধ্যে শক্তি ও সতেজ থাকার জন্য টিপস

  1. হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা করুন (ইফতার বা সেহরির পর)

  2. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

  3. অতিরিক্ত ভাজা, তেলযুক্ত, মিষ্টি বা অতিরিক্ত নোনতা খাবার এড়ান

  4. ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিনব্যাপী শক্তি দেয়

 



Sunday, February 22, 2026

ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করার ১০টি কার্যকর উপায়

 

পরিষ্কার ও গন্ধমুক্ত ফ্রিজের ভেতরের ছবি

ফ্রিজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ফ্রিজে দুর্গন্ধ তৈরি হয়, যা খাবারের স্বাদ ও গুনাগুণ নষ্ট করে। অনেকেই ভাবেন, ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে দামি ক্লিনার প্রয়োজন। আসলে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়েই আপনি এই সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

এই পোস্টে জানুন ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করার কার্যকর ও প্রাকৃতিক উপায়।

ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করার ১০টি কার্যকর উপায়

১. বেকিং সোডা ব্যবহার করুন

একটি ছোট বাটিতে বেকিং সোডা নিয়ে ফ্রিজের ভেতরে রাখুন। এটি দুর্গন্ধ শোষণ করে নেয়।

২. লেবুর টুকরো রাখুন

লেবুর টুকরো বা লেবুর রস একটি পাত্রে রেখে দিলে ফ্রিজে সতেজ গন্ধ থাকবে।

৩. ভিনেগার দিয়ে পরিষ্কার করুন

সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে ফ্রিজের ভেতর মুছে নিন। এটি জীবাণু দূর করে ও দুর্গন্ধ কমায়।

৪. কফি গুঁড়া ব্যবহার

একটি খোলা পাত্রে কফি গুঁড়া রেখে দিলে বাজে গন্ধ দূর হয়।

৫. কয়লা (চারকোল) রাখুন

চারকোল প্রাকৃতিকভাবে দুর্গন্ধ শোষণ করে।

৬. নিয়মিত মেয়াদ পরীক্ষা করুন

সপ্তাহে অন্তত একবার ফ্রিজ চেক করে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিন।

৭. এয়ারটাইট বক্স ব্যবহার করুন

খাবার সবসময় ঢাকনা দেওয়া পাত্রে রাখুন।

৮. ফ্রিজ খালি করে গভীর পরিষ্কার

মাসে অন্তত একবার ফ্রিজ বন্ধ করে সব ট্রে খুলে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

৯. ড্রেন হোল পরিষ্কার রাখুন

ফ্রিজের ভেতরের ড্রেন হোল ব্লক হয়ে গেলে দুর্গন্ধ হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

১০. ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন

৪°C এর আশেপাশে তাপমাত্রা রাখলে খাবার ভালো থাকে ও দুর্গন্ধ কম হয়।

ফ্রিজ পরিষ্কার করার সঠিক নিয়ম

  1. ফ্রিজ বন্ধ করুন

  2. সব খাবার বের করুন

  3. ট্রে ও শেলফ খুলে ধুয়ে নিন

  4. ভিনেগার বা বেকিং সোডা মিশ্রণ দিয়ে মুছুন

  5. সম্পূর্ণ শুকিয়ে আবার চালু করুন

ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করা খুব কঠিন কিছু নয়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ও সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলেই আপনার ফ্রিজ থাকবে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর। আজ থেকেই এই টিপসগুলো অনুসরণ করুন এবং আপনার রান্নাঘর রাখুন সতেজ ও নিরাপদ। 

 

Friday, February 13, 2026

মশলার স্বাদ ও গন্ধ দীর্ঘদিন ধরে রাখার ৭টি কার্যকর কৌশল


 
রান্নার ঘরোয়া মশলা সংরক্ষণের সহজ পদ্ধতি


 মশলা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, বরং খাবারকে সুগন্ধি ও স্বাস্থ্যকরও করে তোলে। কিন্তু অনেক সময় আমরা দেখি, মশলার স্বাদ ও গন্ধ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে মশলা তার মূল গুণ হারায়। এই ব্লগে আমরা জানব মশলার স্বাদ ও গন্ধ দীর্ঘদিন ধরে রাখার কৌশল, যা আপনার রান্নাকে করবে আরও সুগন্ধি ও স্বাস্থ্যকর।

 মশলার স্বাদ ও গন্ধ দীর্ঘদিন ধরে রাখার ৭টি কার্যকর কৌশল

 ১। শুকনো ও শীতল স্থানে সংরক্ষণ করুন

মশলা সরাসরি সূর্যের আলো বা আর্দ্র স্থানে রাখলে দ্রুত তার স্বাদ হারায়।

  • মশলা সংরক্ষণের জন্য শুকনো, অন্ধকার এবং শীতল স্থান নির্বাচন করুন।
  • বদ্ধ কৌটাতে রাখলে দীর্ঘদিন তাজা রাখা সম্ভব।

২। বায়ুর সংস্পর্শ কমান

মশলার গন্ধ ও স্বাদ বায়ুর সংস্পর্শে আসলে দ্রুত কমে যায়।

  • হালকা বদ্ধ কৌটা বা জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করুন।
  • মশলা ব্যবহার করার পর ব্যাগ বা কৌটা ভালোভাবে বন্ধ করুন।

৩। আর্দ্রতা দূর করুন

মশলায় আর্দ্রতা গেলে ফোস্কা বা ছাঁচ ধরে। 

  • চা চামচ শুকনো চাল বা রাইস মশলার কৌটাতে রাখলে আর্দ্রতা কমে।
  • বেসরকারী ড্রায়ার ব্যাগও ব্যবহার করা যায়।

৪। পুরো মশলা ব্যবহার করুন

গুঁড়ো মশলা দ্রুত স্বাদ হারায়, তাই সম্ভব হলে পুরো মশলা কিনে রান্নার আগে গুঁড়া করুন।

  • ধনে, জিরা, গোলমরিচ ইত্যাদি পুরো মশলা বেশি সময় তাজা থাকে।

৫। ছোট ছোট কন্টেইনারে ভাগ করুন

বড় কৌটাতে সব মশলা রাখলে বারবার খোলার কারণে বাতাস লাগে।

  • ছোট কন্টেইনারে ভাগ করলে স্বাদ ও গন্ধ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
  • দৈনন্দিন রান্নার জন্য ছোট কন্টেইনার ব্যবহার করুন।

৬। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন

উচ্চ তাপমাত্রা মশলার তেলকে ক্ষয় করে, ফলে স্বাদ হারায়।

  • চুলা বা ওভেনের পাশে রাখবেন না।
  • ফ্রিজে রাখলে কিছু মশলা যেমন কাঁচা লঙ্কা বেশি দিন থাকে।

৭। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

মশলা সংরক্ষণের আগে কৌটা ও চামচ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

  • আঙুল বা নোংরা চামচ দিয়ে মশলা তুলবেন না।
  • এতে মশলার গন্ধ ও স্বাদ দীর্ঘদিন ধরে থাকবে। 

Wednesday, February 4, 2026

মৌসুমি খাবার এর উপকারিতা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা

 


পুষ্টিগুণে ভরপুর মৌসুমি খাবারের


  বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো মৌসুমি খাবার খাওয়া। এসব খাবার পুষ্টিগুণে ভরপুর, তাজা এবং শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মৌসুমি ফল ও সবজি রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 মৌসুমি খাবারের উপকারিতা

 

🥕 ১. পুষ্টিগুণ বেশি

মৌসুমি ফল ও সবজি তাজা হওয়ায় এতে ভিটামিন ও মিনারেল বেশি থাকে।

💪 ২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

মৌসুম অনুযায়ী শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।

💰 ৩. খরচ কম

মৌসুমে খাবারের সরবরাহ বেশি থাকে বলে দাম তুলনামূলক কম হয়।

🌱 ৪. হজমে সহায়ক

প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হওয়ায় এসব খাবার সহজে হজম হয়।

❤️ ৫. শরীরকে সতেজ রাখে

মৌসুম অনুযায়ী শরীরকে ঠান্ডা বা গরম রাখতে সাহায্য করে।


স্বাস্থ্যকর মৌসুমি খাদ্য তালিকা

☀️ গরমকালের খাবার

  • তরমুজ, আম, লিচু

  • শসা, টমেটো

  • ডাবের পানি

  • লাউ ও করলা

🌧️ বর্ষাকালের খাবার

  • পুঁইশাক, কচু শাক

  • পেঁপে

  • লেবু

  • গরম স্যুপ ও সবজি

❄️ শীতকালের খাবার

  • গাজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি

  • পালং শাক

  • কমলা, মাল্টা

  • খেজুর ও বাদাম

 

 

Wednesday, January 28, 2026

রান্নায় সময় বাঁচানোর ঘরোয়া কৌশল

 

রান্নাঘরে সময় বাঁচানোর সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া কৌশল

 

বর্তমানে  চাকরী জীবীদের রান্নার জন্য আলাদা সময় বের করা  জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া কৌশল মেনে চললে কম সময়ে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর রান্না করা সম্ভব। আজ আমরা জানবো এমন কিছু কার্যকর টিপস, যা প্রতিদিনের রান্নায় সময় বাঁচাতে সাহায্য করবে।


১. আগেভাগে সব উপকরণ প্রস্তুত করুন 

রান্না শুরু করার আগে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, সবজি কেটে রাখলে রান্নার সময় অনেক কমে যায়।
সপ্তাহের শুরুতে কিছু উপকরণ কেটে ফ্রিজে রেখে দিলে প্রতিদিন রান্না সহজ হয়।


২. আদা–রসুন বাটা সংরক্ষণের স্মার্ট উপায়

আদা ও রসুন একসাথে বেটে অল্প তেল মিশিয়ে বয়ামে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। এতে প্রতিদিন নতুন করে বাটার ঝামেলা থাকবে না এবং সময় বাঁচবে।


৩. প্রেসার কুকার ও রাইস কুকার ব্যবহার করুন


ডাল, মাংস ও ভাত রান্নায় প্রেসার কুকার বা রাইস কুকার ব্যবহার করলে অল্প সময়ে রান্না শেষ হয়। এটি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও সাহায্য করে।


৪. একসাথে একাধিক রান্না করার কৌশল

একই সময়ে একাধিক আইটেম রান্না করার চেষ্টা করুন।
যেমন—ভাত বসানোর সময় সবজি কাটা বা তরকারি তৈরি করলে সময়ের সঠিক ব্যবহার হয়।


৫. সহজ রেসিপি বেছে নিন

প্রতিদিন জটিল রান্নার পরিবর্তে সহজ ও কম উপকরণের রেসিপি নির্বাচন করুন। এতে সময়ও বাঁচবে, রান্নার চাপও কমবে।


৬. মশলা আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন

মশলার ডাব্বা হাতের কাছে থাকলে রান্নার সময় বারবার খোঁজাখুঁজির প্রয়োজন হয় না। এটি রান্নার গতি বাড়ায়।


৭. ফ্রিজার স্মার্টভাবে ব্যবহার করুন

রান্না করা খাবার ছোট পাত্রে ভাগ করে ফ্রিজে রাখলে প্রয়োজনে দ্রুত গরম করে খাওয়া যায়। এতে হঠাৎ অতিথি এলে বা সময় না থাকলে উপকার হয়।


৮. পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি কমানোর উপায়

পেঁয়াজ কাটার সময় পাশে একটি মোমবাতি জ্বালালে চোখে পানি কম আসে এবং কাজ দ্রুত শেষ করা যায়।


৯. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একসাথে করুন

রান্নার ফাঁকে ফাঁকে ব্যবহৃত বাসন ধুয়ে ফেললে রান্না শেষে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয় না।


১০. রান্নার রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন কী রান্না করবেন তার একটি ছোট তালিকা তৈরি করে রাখলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় কম লাগে এবং রান্না দ্রুত হয়।


উপসংহার

সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু সহজ রান্নায় সময় বাঁচানোর ঘরোয়া কৌশল অনুসরণ করলে ব্যস্ত সময়েও রান্না করা আর চাপের বিষয় থাকবে না। নিয়মিত এই টিপসগুলো মেনে চললে সময়, শক্তি ও গ্যাস—সবই সাশ্রয় হবে।

Tuesday, January 27, 2026

ঘরের পোকামাকড় দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

 

ঘর পরিষ্কারের সময় প্রাকৃতিক পোকা দমন উপকরণ

ঘরের পোকামাকড় যেমন পিঁপড়া, মশা, তেলাপোকা বা মাছি—এই সবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তির কারণ। বাজারের কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার করলে সাময়িক উপকার পাওয়া গেলেও তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আজ আমরা জানবো ঘরের পোকামাকড় দূর করার প্রাকৃতিক উপায়-

১. লেবু ও ভিনেগার ব্যবহার করুন

লেবুর গন্ধ ও ভিনেগারের অ্যাসিড পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না।
👉 সমান পরিমাণ পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে পোকামাকড় চলাচলের জায়গায় ছিটান।

২. নিম পাতা বা নিম তেল

নিম একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক কীটনাশক।
👉 শুকনো নিম পাতা ঘরের কোণে রাখুন অথবা পানিতে নিম তেল মিশিয়ে স্প্রে করুন।

৩. লবঙ্গ ও দারুচিনি

লবঙ্গ ও দারুচিনির গন্ধে মশা ও মাছি দূরে থাকে।
👉 জানালার পাশে বা রান্নাঘরে কয়েকটি লবঙ্গ রেখে দিন।

৪. বেকিং সোডা ও চিনি

পিঁপড়া ও তেলাপোকা দূর করতে এটি খুব কার্যকর।
👉 সমান পরিমাণ বেকিং সোডা ও চিনি মিশিয়ে পোকামাকড়ের চলার পথে ছড়িয়ে দিন।

৫. রসুন ও মরিচের মিশ্রণ

রসুন ও মরিচের ঝাঁজালো গন্ধ পোকামাকড় পছন্দ করে না।
👉 পানি দিয়ে রসুন ও শুকনো মরিচ বেটে স্প্রে তৈরি করুন।

৬. কর্পূর (কাপুর)

কর্পূরের গন্ধে তেলাপোকা ও মশা দূরে থাকে।
👉 ছোট পাত্রে কর্পূর রেখে ঘরের কোণে রাখুন।

৭. এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার/পিপারমিন্ট)

এই তেলের গন্ধ পোকামাকড় প্রতিরোধ করে।
👉 কয়েক ফোঁটা তেল পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।

৮. ঘর পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন

নোংরা ও ভেজা জায়গায় পোকামাকড় বেশি হয়।
👉 নিয়মিত ঝাড়ু, মপ ও আবর্জনা পরিষ্কার করুন।

৯. খাবার ঢেকে রাখুন

খোলা খাবার পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে।
👉 খাবার সবসময় ঢেকে রাখুন এবং ডাস্টবিন প্রতিদিন খালি করুন।

১০. সূর্যের আলো ও বাতাস ঢুকতে দিন

সূর্যের আলো জীবাণু ও পোকামাকড় কমাতে সাহায্য করে।
👉 প্রতিদিন কিছু সময় জানালা খুলে রাখুন।

✅ উপসংহার

এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে কেমিক্যাল ছাড়াই আপনার ঘর থাকবে পোকামাকড়মুক্ত ও স্বাস্থ্যকর। এগুলো যেমন নিরাপদ, তেমনি খরচও খুব কম।

 

Saturday, January 24, 2026

রান্নায় লবণ বেশি হলে করনীয়

 

"লবণ বেশি হয়েছে? জানুন কিভাবে সহজে তরকারির স্বাদ ঠিক করবেন ঘরোয়া কৌশলে।"

অনেক সময় রান্নায় লবণ বেশি হয়ে যায়। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিছু সহজ ঘরোয়া কৌশল ব্যবহার করলে লবণ কমিয়ে তরকারির স্বাদ আবার ঠিক করা যায়। তরকারীতে লবণ বেশি হলে  তরকারির স্বাদ ঠিক ৭ টি টিপস নিচে দেয়া হলঃ

১. গরম পানি যোগ করুন

যদি তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে যায়, তাহলে অল্প পরিমাণ গরম পানি বা ঝোল যোগ করুন। এটি লবণের তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং স্বাদ ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ডাল, স্যুপ বা ঝোলজাত খাবারে এটি খুব কার্যকর। 

২. কাঁচা আলু ব্যবহার করুন

আলু লবণ শোষণ করার ক্ষমতা রাখে। তাই কাঁচা আলু মাঝখান থেকে কেটে বা পুরো আলু হিসেবে তরকারির মধ্যে কয়েক মিনিট রেখে দিন। পরে আলু তুলে ফেললে স্বাদ অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে। 

৩. টমেটো যোগ করুন

টমেটো লবণের স্বাদ কমাতে সাহায্য করে। তরকারিতে সামান্য টমেটো বা টমেটো পেস্ট যোগ করলে লবণের অতিরিক্ত ঝাঁজ নরম হয়ে যায় এবং তরকারিতে প্রাকৃতিক টক-মিষ্টি ভাব আসে। এছাড়া এটি তরকারির রঙ এবং সুগন্ধও বাড়ায়।

৪. দই বা টক দুধ ব্যবহার করুন

 তরকারিতে সামান্য দই বা টক দুধ মিশিয়ে দিন। এটি স্বাদকে মোলায়েম করে এবং খাবারকে আরও সুষম করে তোলে। বিশেষ করে ঝোলজাত বা মশলাদার তরকারিতে এই পদ্ধতি অনেক কার্যকর।

৫. এক চিমটি চিনি দিন

এক চিমটি চিনি তরকারিতে দিলে লবণের স্বাদ অনেকটাই ব্যালেন্স হয়ে যায়। তবে খুব বেশি চিনি ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ এতে স্বাদ অন্যদিকে চলে যেতে পারে।

৬. লেবুর রস ব্যবহার করুন

লেবুর রস শুধু স্বাদ বাড়ায় না, এটি লবণের অতিরিক্ত ঝাঁজও কমায়। সামান্য লেবুর রস তরকারিতে যোগ করলে খাবারের স্বাদ সতেজ হয় এবং পুরো খাবারটা আরও খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে

৭. অতিরিক্ত সবজি বা ডাল যোগ করুন

সবজি বা ডাল যোগ করলে তরকারির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং লবণ ভাগ হয়ে যায়। এতে স্বাদ অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন, বেশি লবণযুক্ত তরকারিতে সামান্য মটরশুঁটি, বাঁধাকপি বা ডাল যোগ করলে খাবার খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।

লবণ বেশি হয়ে যাওয়া কোনো বড় সমস্যা নয়। সঠিক ঘরোয়া কৌশল জানা থাকলে খুব সহজেই তরকারির স্বাদ ঠিক করা সম্ভব। উপরের এই  টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার রান্না হবে আরও নিখুঁত এবং সুস্বাদু।