Thursday, November 20, 2025

তেলের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়

 




জামা, টেবিলক্লথ বা রান্নাঘরের কাপড়ে তেলের দাগ পড়লে চিন্তা নয়!
কিছু সহজ ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করেই আপনি দূর করতে পারেন এই জেদি দাগগুলো।


১. বেকিং সোডা দিয়ে তেলের দাগ তুলুন

বেকিং সোডা তেলের দাগ টেনে নেয় ও কাপড়ের রঙ নষ্ট করে না।


যেভাবে করবেন:

  • দাগের জায়গায় সামান্য বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন।

  • ১৫ মিনিট পর হালকা ব্রাশ বা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলুন।

  • এরপর সাধারণ ডিটারজেন্টে ধুয়ে ফেলুন।

এটি বিশেষ করে কটন বা লিনেন কাপড়ে ভালো কাজ করে।


 ২. লেবুর রস ও লবণের ম্যাজিক

প্রাকৃতিক ব্লিচের মতো কাজ করে লেবুর রস, আর লবণ দাগ শোষণ করে।
যেভাবে করবেন:

  • লেবুর রস ও লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

  • দাগের উপর লাগিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে দিন।

  • তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই পদ্ধতি সাদা বা হালকা রঙের কাপড়ে দারুণ ফল দেয়।


৩. ডিশ ওয়াশ লিকুইড দিয়ে দ্রুত সমাধান

তেল কাটাতে ডিশ ওয়াশ সেরা!
যেভাবে করবেন:

  • কয়েক ফোঁটা ডিশ ওয়াশ লিকুইড দাগের উপর দিন।

  • নরম ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে ঘষে নিন।

  • হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

তাজা তেলের দাগ হলে এটি সবচেয়ে কার্যকর।


 ৪. কর্ন ফ্লাওয়ার বা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করুন

এটি দাগের তেল শুষে নেয়।
যেভাবে করবেন:

  • দাগের উপর পাউডার ছিটিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন।

  • তারপর ব্রাশ করে তুলে ফেলুন।

  • এরপর স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে ফেলুন।

সিল্ক বা ডেলিকেট ফ্যাব্রিকের জন্য নিরাপদ উপায়।


 ৫. ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে প্রাকৃতিক ক্লিনার তৈরি করুন

যেভাবে করবেন:

  • ১ কাপ পানি + ½ কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে স্প্রে বোতলে নিন।

  • দাগের উপর স্প্রে করে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।

  • তারপর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

রান্নাঘরের কাপড়, টেবিলক্লথ বা পর্দায় তেলের দাগ তুলতে দারুণ কাজ দেয়।


টিপস:

  • গরম পানি ব্যবহার করবেন না — এতে দাগ আরও স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

  • সবসময় প্রথমে কাপড়ের ছোট অংশে টেস্ট করে নিন।

  • দাগ যত দ্রুত পরিষ্কার করবেন, তত সহজে যাবে।


তেলের দাগ তুলতে দামি ডিটারজেন্ট নয়, ঘরোয়া উপকরণই যথেষ্ট!
নিয়মিত এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে আপনার জামা-কাপড় ও ঘরের কাপড় থাকবে একদম নতুনের মতো পরিষ্কার 

Tuesday, November 18, 2025

অল্প খরচে ঘর সাজানোর ১০টি আইডিয়া

 




ঘর সাজানো মানেই যে অনেক টাকা খরচ করতে হবে—এটা ভুল ধারণা। সঠিক পরিকল্পনা, কিছু সৃজনশীল চিন্তা এবং খুব সাধারণ জিনিস ব্যবহার করেও আপনার ঘরকে সুন্দর, পরিপাটি ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। আজ জানুন অল্প বাজেটে ঘর সাজানোর ১০টি সহজ কিন্তু কার্যকর আইডিয়া।


১️.পুরোনো জিনিস রং করে নতুন লুক দিন

পুরোনো চেয়ার, টেবিল, আলমারি বা কাঠের শোকেসকে রং করে একেবারে নতুন লুক দিতে পারেন।

  • সাদা, প্যাস্টেল বা নীল রং ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখাবে

  • কম খরচে ঘরের পুরো পরিবেশ বদলে যায়
    এটি সবচেয়ে বাজেট–ফ্রেন্ডলি বাড়ি সাজানোর টেকনিক।


২️.ফেয়ারি লাইট দিয়ে উজ্জ্বল পরিবেশ

ঘরের যেকোনো কোণার সৌন্দর্য বাড়াতে ফেয়ারি লাইট অসাধারণ।

  • বেডের হেডবোর্ড

  • জানালার চারপাশ

  • আয়নার পাশে
    এভাবে ব্যবহার করলে ঘরে তৈরি হয় আরামদায়ক ambiance


৩️.ইনডোর প্ল্যান্ট – কম খরচে বেশি সৌন্দর্য

গাছের সবুজ রং যেকোনো ঘরকে প্রাণবন্ত করে।

  • মানিপ্ল্যান্ট

  • স্নেক প্ল্যান্ট

  • মানিপ্ল্যান্ট ইন ওয়াটার জার
    এগুলো কম পানি, কম যত্নে টিকে থাকে এবং দারুণ দেখায়।


৪️.দেয়ালে DIY ফটো গ্যালারি তৈরি করুন

বড় বড় ছবি না নিয়ে—

  • প্রিন্টেড ছোট ছোট ফটো

  • সাদা-কালো ছবি

  • স্মৃতি ধরে রাখা ফ্রেম
    ঘরের দেয়ালে সাজিয়ে নিলে দেয়াল হয়ে উঠবে সুন্দর একটি স্টেটমেন্ট ওয়াল।


৫️. কুশন কভার পরিবর্তন করে ঘরকে নতুন লুক দিন

সোফা বা বিছানার কুশন কভারের রঙ বদলালেই ঘরের চেহারা বদলে যায়।

  • প্যাস্টেল রং

  • মিনিমাল ডিজাইন

  • কাপড়ের texture
    এগুলো ঘরকে শান্ত ও পরিপাটি দেখাবে।


৬️.পুরোনো বোতল/জার দিয়ে ফ্লাওয়ার ভাস বানান

গ্লাস জার বা খালি বোতল ফেলে না দিয়ে—

  • রঙ করুন

  • দড়ি বা লেস দিয়ে সাজান

  • ভেতরে কৃত্রিম বা আসল ফুল দিন
    তখনই তৈরি হয়ে যাবে সুন্দর টেবিল ডেকর।


৭️.দেয়ালে ছোট শেলফ লাগান

ছোট floating shelf খুব কম খরচে ঘরকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
এতে রাখতে পারেন—

  • বই

  • ছোট গাছ

  • শো-পিস

  • মোমবাতি
    এটি স্পেসও বাঁচায়, আবার সুন্দরও দেখায়।


৮️. কার্পেট বা রাগ ব্যবহার করুন

মাঝারি সাইজের একটি রাগ ঘরের পরিবেশ পুরো বদলে দিতে পারে।

  • সোফার নিচে

  • বিছানার সামনে

  • রুমের মাঝখানে
    এতে ঘর উষ্ণ এবং cozy লাগে।


৯️. পুরোনো কাপড় দিয়ে DIY শো-পিস

  • পুরোনো শাড়ি

  • দোপাট্টা

  • কটন কাপড়
    ব্যবহার করে টেবিল রানার, কুশন কভার বা দেয়াল ঝুল তৈরি করতে পারেন।
    এগুলো ঘরে এনে দেবে  আরামদায়ক এবং ট্র্যাডিশনাল লুক।


১০.আয়না ব্যবহার করে ঘরকে বড় দেখান

আয়না ঘরে আলো প্রতিফলিত করে স্পেস বড় দেখায়।

  • জানালার বিপরীত

  • বেডের পাশে

  • করিডোরে
    এগুলোতে আয়না লাগালে ঘর হবে আরও ব্রাইট ও ওপেন।



অল্প খরচে ঘর সাজানো কঠিন কিছু নয়—বরং কিছু সৃজনশীলতা আর সঠিক সাজসজ্জায় আপনার পুরো ঘরের লুক বদলে যাবে। উপরের আইডিয়াগুলো ধীরে ধীরে প্রয়োগ করে দেখুন, আপনার ঘর হয়ে উঠবে আরও আরামদায়ক, উজ্জ্বল এবং স্টাইলিশ।

Monday, November 17, 2025

রান্নাঘরের দাগ দূর করার ঘরোয়া টিপস




 রান্নাঘর একদম পরিষ্কার ও সুরক্ষিত রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের খাবারের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। রান্নাঘরে নিয়মিত দাগ পড়ে, বিশেষ করে চিনি, তেল, মশলা, টমেটো সস, বা তেল মিশ্রিত খাবার তৈরির সময়। তবে, আপনি কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে এই দাগগুলো সহজেই দূর করতে পারেন।

এখানে রান্নাঘরের দাগ দূর করার কয়েকটি কার্যকরী ঘরোয়া টিপস দেওয়া হল:


১. বেকিং সোডা এবং ভিনেগার

বেকিং সোডা এবং ভিনেগার মিশিয়ে রান্নাঘরের তেলের দাগ বা মশলার দাগ পরিষ্কার করা যায়। একটি কাপ ভিনেগারে ২ চামচ বেকিং সোডা যোগ করুন, মিশ্রণটি দাগের উপরে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং তারপর স্ক্রাবিং করে পরিষ্কার করুন।

২. লেবুর রস এবং বেকিং সোডা

লেবুর রস এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে রান্নাঘরের দাগগুলো সহজে দূর করা যায়। বেকিং সোডা ছড়িয়ে লেবুর রস দিন এবং কিছুক্ষণ রেখে স্ক্রাব করুন।

৩. শ্যাম্পু ব্যবহার

রান্নাঘরের তেল ও মশলার দাগ দূর করতে সাধারণ রান্নাঘরের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু লাগিয়ে কিছু সময় রেখে স্ক্রাবিং করলে দাগ দূর হবে।

৪. ক্লিনিং ওয়াইপস বা মাইক্রোফাইবার কাপড়

মাইক্রোফাইবার কাপড় বা ক্লিনিং ওয়াইপস দিয়ে রান্নাঘরের পৃষ্ঠ পরিষ্কার করলে তেলের দাগ এবং ময়লা সহজেই দূর হবে।

৫. ডিশওয়াশিং লিকুইড

ডিশওয়াশিং লিকুইড ব্যবহার করে রান্নাঘরের দাগ এবং তেল পরিষ্কার করা খুবই কার্যকর। ১ চা চামচ ডিশওয়াশিং লিকুইড গরম পানিতে মিশিয়ে দাগের উপর লাগিয়ে স্ক্রাব করুন।

৬. সাদা ভিনেগার

সাদা ভিনেগার রান্নাঘরের মেঝে বা কাঠের দাগ পরিষ্কার করতে খুব কার্যকর। এক কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে রান্নাঘরের মেঝেতে ছিটিয়ে স্ক্রাবিং করুন।

৭. গরম পানি ও ডিটারজেন্ট

গরম পানি এবং ডিটারজেন্ট মিশিয়ে রান্নাঘরের চুলা বা উনুনের দাগ পরিষ্কার করা যায়। গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে দাগে ছিটিয়ে কিছু সময় পরে স্ক্রাবিং করে পরিষ্কার করুন।

এই সহজ ঘরোয়া টিপসগুলো ব্যবহার করে আপনার রান্নাঘরের দাগ দূর করতে পারবেন, যা আপনার রান্নাঘরকে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখবে।

Sunday, November 16, 2025

কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার উপায়

 

রক্তের  কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০-এর বেশি হলেই ধমনির অভ্যন্তরীণ দেয়ালে তা জমতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে পুঞ্জীভূত হয়ে প্লাক বা পিণ্ডের মতো হয়ে সেখানে লেগে থাকে। ফলে রক্তপ্রবাহের পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। এভাবে রক্তনালী বিশেষ করে ধমনির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্তে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা হৃৎপিণ্ডে ঘটলেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। কোলেস্টেরল মাত্রার এই ঊর্ধ্বগতিকে রোধ করা সম্ভব বা কমিয়ে আনাও সম্ভব। হার্ট অ্যাটােেকর ঝুঁকি কমাতে হলে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-এর নিচে রাখতে হবে।
কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার উপায়

  • রান্নার কাজে ঘি, বাটার অয়েল ব্যবহার না করে সয়াবিন কিংবা পামঅয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মিষ্টান্ন তৈরির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে স্কিমড বা ননীতোলা দুধ।
  • একইভাবে ডিমের তৈরি যেকোনো খাবার থেকে কুসুমকে বাদ দেয়া যেতে পারে।

তা ছাড়া প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। খাবারের সাথে সালাদ রাখতে হবে। সালাদ ও শাকসবজি খাবারের চর্বিকে শরীরের শোষিত হতে বাধা দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন ১০ গ্রামের মতো দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৫-১০ শতাংশ কমতে পারে। কোলেস্টেরল থেকে রক্ষা পেতে চর্বিযুক্ত খাবার পরিহারের পাশাপাশি ব্যায়ামও একই সাথে চালাতে হবে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এলডিএলের মাত্রা কমে আর অন্য দিকে ব্যায়াম করলে ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচডিএলের মাত্রা বাড়ে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ১ মি.গ্রা এলডিএলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, একই পরিমাণ এইচডিএলে তার চেয়ে তিনগুণ উপকার হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিদিন অন্তত দুই মাইল হাঁটা উচিত। সুতরাং সুস্থ থাকার জন্য লাল গোশত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং সেই সাথে শাকসবজি গ্রহণেও হতে হবে সচেষ্ট।
খাওয়ার জন্য না বেঁচে বাঁচার জন্য খেতে হবে। কিন্তু কোরবানি তো আর ভোজোৎসব নয়, সুতরাং ভোজের আনন্দে না মেতে ত্যাগের মহিমায় নিজেকে উদ্ভাসিত করলেই রেহাই পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে।

Saturday, November 8, 2025

অ্যালার্জি বা ত্বকের লালচে ভাব কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার

 


ত্বকের অ্যালার্জি বা লালচে দাগে ভুগছেন? ঘরে থাকা প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে জানুন অ্যালার্জি কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার ও সহজ যত্নের উপায়।


অ্যালার্জি ও ত্বকের লালচে ভাব কেন হয়?

ত্বকের অ্যালার্জি সাধারণত হয় — ধুলোবালি, কেমিক্যাল, খাবার বা তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে।
লালচে দাগ, চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
সঠিক যত্ন না নিলে এগুলো বেড়ে গিয়ে ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।


ঘরোয়া উপকরণে সহজ প্রতিকার:

১. অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরার ঠান্ডা প্রভাব ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ত্বকের জ্বালাপোড়া ও লালভাব কমায়।
ব্যবহার:

  • তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগান।

  • দিনে ২ বার ব্যবহার করুন।
    ফলাফল: ১–২ দিনের মধ্যেই ত্বক শান্ত ও মোলায়েম হবে।


 ২️.ঠান্ডা দুধ ও তুলা

দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে আরাম দেয় এবং লালচে ভাব কমায়।
ব্যবহার:

  • তুলা দুধে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৫–১০ মিনিট রাখুন।

  • দিনে একবার করলে ভালো ফল পাবেন।


 ৩️.গ্রিন টি কমপ্রেস

গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকের প্রদাহ ও অ্যালার্জি কমায়।
ব্যবহার:

  • ঠান্ডা করা গ্রিন টি তুলোয় ভিজিয়ে ত্বকে লাগান।

  • ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।


 ৪️.মধু ও হলুদের প্যাক

মধু ত্বক নরম করে, আর হলুদ অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে।
ব্যবহার:

  • ১ চা চামচ মধু + ½ চা চামচ হলুদ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।

  • ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
    ফলাফল: ত্বক উজ্জ্বল ও অ্যালার্জিমুক্ত লাগবে।


 ৫️.ঠান্ডা বরফ প্যাক

বরফ ত্বকের ফুলে যাওয়া ও লালচে ভাব তাড়াতাড়ি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

  • কাপড়ে বরফ মুড়ে হালকা চাপ দিন ২–৩ মিনিটের জন্য।
    সরাসরি বরফ লাগাবেন না — ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


অ্যালার্জি হলে কী করবেন না?

❌ কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা পারফিউম লাগাবেন না।
❌ চুলকাবেন না বা ঘষে পরিষ্কার করবেন না।
✅ প্রচুর পানি পান করুন — শরীর ঠান্ডা রাখুন।
✅ তুলা বা ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
✅ অ্যালার্জি বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


শীতে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল রাখার ১০টি ঘরোয়া উপায়

 


শীত এলেই ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ, টানটান আর নিষ্প্রভ। ঠান্ডা বাতাস আর কম আর্দ্রতার কারণে ত্বক তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে।
তবে চিন্তার কিছু নেই — কিছু সহজ ঘরোয়া যত্নেই আপনি শীতে আপনার ত্বক রাখতে পারেন নরম, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। 🌸



১️.প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগে, কিন্তু শরীর ও ত্বক দুটোই হাইড্রেটেড থাকতে পানি খুব দরকার। আপনি দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস রাখুন।

২️.হালকা গরম পানিতে মুখ ও শরীর ধুয়ে নিন

অনেকেই শীতে গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন, এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। আপনি হালকা গরম (লুকওয়ার্ম) পানি ব্যবহার করুন।

৩️.ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান

স্নানের পর ত্বক একটু ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে আর্দ্রতা ত্বকে আটকে থাকবে।
নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল দারুণ প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার।

৪️.দুধ ও মধুর ফেস প্যাক ব্যবহার করুন

এক চা চামচ দুধ ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও নরম।

৫. মুখে স্ক্রাব ব্যবহার করুন সপ্তাহে ১–২ বার

শীতে মৃত কোষ জমে ত্বক নিষ্প্রভ লাগে। আপনি মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করে ত্বক পরিষ্কার রাখুন।
ঘরোয়া স্ক্রাব: মধু + চিনি বা ওটস + দুধ।

৬️.রাতে ঘুমানোর আগে লিপ কেয়ার করুন

শীতে ঠোঁট ফাটে সবচেয়ে বেশি। ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ঘরোয়া লিপ বাম (মধু + নারকেল তেল) ব্যবহার করুন।

৭️. ঘরের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখুন

শীতকালে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়। আপনি চাইলে একটা ছোট humidifier ব্যবহার করতে পারেন, বা ঘরে এক বাটি পানি রাখলেও কাজ দেয়।

৮. প্রাকৃতিক তেল দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন

সপ্তাহে ২–৩ দিন অ্যালোভেরা জেল বা বাদাম তেল দিয়ে মুখে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে, ত্বক হয় গ্লোয়িং।

৯️.হেলদি ডায়েট অনুসরণ করুন

আপনি যত্ন নিলেও যদি খাবারে ভিটামিন না থাকে, ত্বক ভালো থাকবে না। ভিটামিন A, C, E যুক্ত খাবার — যেমন গাজর, কমলা, ডিম, কাজুবাদাম খান নিয়মিত।

১০.যথেষ্ট ঘুমান ও মানসিক চাপ কমান

শরীর বিশ্রাম না পেলে ত্বকও ক্লান্ত দেখায়। প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমান এবং স্ট্রেস ফ্রি থাকুন।


 আপনি শীতে গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে একটা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার বানিয়ে নিতে পারেন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং স্কিনকে করে তুলবে মসৃণ ও উজ্জ্বল। 


Thursday, November 6, 2025

নিম ও নিমপাতার গুণাগুণ


নিমের স্বাদ তিতকুটে হলেও এর গুণাগুণ বেশ মধুর। নিমের রয়েছে অসংখ্য গুণ। বিশেষ করে নিম পাতা ভেষজ হিসেবে পরিচিত একটি নাম, যা ত্বক এবং শরীর দুটোর জন্যই উপকারী। চলুন জেনে আসা যাক নিমের কিছু গুণ-

১. নিমপাতা ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া বিরোধী। তাই ত্বকের সুরক্ষায় এর জুড়ি নেই। ব্রণের সংক্রমণ হলেই নিমপাতা থেঁতো করে লাগালে ভালো ফল নিশ্চিত।

২. মাথার ত্বকে অনেকেরই চুল্কানি ভাব হয়, নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এই চুলকানি কমে, চুল শক্ত হয়, চুলের শুষ্কতা কমে যায় এবং চুল গজানো তরাণ্বিত হয়।

৩. ত্বকের চুলকানিতেও নিমপাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

৪. নিয়মিত নিমপাতার সাথে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়। তবে হলুদ ব্যবহার করলে রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো। নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ কম হবে।

৫. নিমের তেলে প্রচুর ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি এসিড থাকে যা ত্বক এবং চুলের জন্য উপকারী।

৬. নিমপাতা সেদ্ধ পানি গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে নিন। যাদের স্কিন ইরিটেশন এবং চুল্কানি আছে তাদের এতে আরাম হবে আর গায়ে দুর্গন্ধের ব্যাপারটাও কমে যাবে আশা করা যায়।

৭. নিমপাতা সেদ্ধ পানি বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। কোন ফেসপ্যাক পেস্ট করার সময় পানির বদলে এই নিম পানি ব্যবহার করতে পারেন।

৮. নিমের ডাল যে দাঁতের জন্য উপকারী সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের জীবাণু রোধে এটি বেশ কার্যকরী।

৯. কাটা ছেড়া বা পোড়া স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে।

১০. নিম পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারেন পরবর্তীতে ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।