Wednesday, May 10, 2023

ভিটামিন-সি এর তাৎপর্য


কেবল শুকনো বীজ ও খাদ্যশস্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের খাদ্য-উপাদানে ভিটামিন ‘সি’ থাকে বলে এর অভাব তেমন দেখা যায় না। তবে ক্রমাগত এর অভাব ঘটতে থাকলে শরীরে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 চিকিৎসকেরা বলেন, ভিটামিন-সির অভাবে শিশুর স্কার্ভি রোগ হয়। বড়দের ক্লান্তি লাগা, দুর্বলতা, নড়বড়ে দাঁত-হাড়, বিভিন্ন গ্রন্থিতে ব্যথা, অল্পতেই রক্তক্ষরণ প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা এবং শরীরে পানি জমে বিভিন্ন রকম জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।
শরীরে মজুদ হিসেবে থাকার ব্যবস্থা নেই, তাই ভিটামিন ‘সি’ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা দরকার। এটি সরাসরি অন্ত্র থেকে দেহে শোষিত হয় এবং পোর্টাল শিরা দিয়ে রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজে অংশ নেয়।

পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২০ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম এবং শিশুদের দৈনিক ১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি গ্রহণ করা উচিত। সে জন্য কাঁচা ফলমূল বেশি করে খাওয়া দরকার। প্রতিদিন অন্তত একটি আমলকী যদি খাওয়া যায়, তাহলে ভিটামিন-সির অভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা যাবে।

আমলকী ভিটামিন-সির খুবই ভালো একটি উৎস। একটি আমলকী খেলে আপনি পাবেন ৪৬৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি, যা অন্যান্য ফলের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি। তবে কমলালেবু, কাগজি লেবু, আমড়া, জাম্বুরা, কাঁচা তেঁতুল, বরই প্রভৃতিও ভিটামিন-সির ভালো উৎস।

সবজির মধ্যে ফুলকপি, সজিনা, ডাঁটা, বরবটি, মরিচ, করলায় প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে। আর শাকের মধ্যে মুলাশাক, সজিনাপাতা, শালগমপাতা, আলুশাক প্রভৃতিতে ভিটামিন-সি বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। তাই শরীরে ভিটামিন-সির অভাব পূরণের জন্য নিয়মিত এসব ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণ করে সুস্থ থাকুন।

No comments:

Post a Comment