শরীর সুস্থ রাখার জন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনেকেরই একটু সময় নিয়ে বাসায় যোগব্যায়াম করা হয়ে ওঠে না। আবার জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো ও হয়তো সময়ের অভাবে বা অর্থাভাবে হয়ে ওঠেনা , কেননা উন্নতমানের জিমে ভর্তি হওয়া বা মাসিক ফি রীতিমতো খরচান্ত ব্যাপার । তাই, বিনা খরচে “পুশ আপ” হতে পারে আপনার শরীরের জন্য একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম । শরীরের ওজনের ভারসাম্য দুহাতের ওপর রেখে পুরো শরীরকে ওপর নিচ করার এই কাজটি বেশ কষ্টকর হলেও এতে অনেকগুলো সুফল পাওয়া যায় ।
পুশ আপ করলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়, ক্যালরি ঝরে, মানসিক শক্তি দৃঢ় হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এছাড়াও, গলা থেকে পা অবধি প্রতিটি মাংসপেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অনেকেই আছেন যারা অনেকক্ষণ ধরে পুশ আপ করতে পারেন। তবে একদিনে বা কয়েকদিনের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে পুশ আপ করার চেষ্টা না করাই ভাল। ধীরে ধীরে সময় হাতে নিয়ে অনুশীলন করতে করতে পুশ আপ করার নির্ধারিত সময় অল্প অল্প করে বাড়ানো উচিত।
যদিও হাতের উপরেই ভর রেখে পুশ আপ করা হয় তবুও পুশ আপ করলে সারা শরীরের মাংসপেশির ওপর চাপ পড়ে। এতে মাংসপেশিতে যে টান পরে, তাতে শরীরের উপকার হয়। এছাড়াও, পুশ আপ করলে হাত, কাঁধ এবং শরীরের নীচের অংশ মজবুত হয়। শুধু তাই নয়, পুশ আপ মাংসপেশিকে স্থিতিস্থাপক বানাতে সাহায্য করে এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে । পুশ আপ করলে আমাদের মাংসপেশির অন্দরে থাকা ফাইবারের উন্নতি ঘটে। এই ফাইবারগুলি প্রত্যেকটিই আণুবীক্ষণিক এক ধরণের স্নায়ু। এই স্নায়ুগুলি আমাদের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত পুশ আপ করলে আমাদের শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে।
এখানেই শেষ নয়,
পুশ আপ সারা শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুদের আরও শক্তিশালী করে তোলে, যা শরীরের গতিবিধি এবং তার ওজনের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি খাপ খাইয়ে নিতে পারে। মাংসপেশির ঘনত্ব বজায় থাকে । মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, তত তার মাংসপেশির ঘনত্ব কমতে থাকে। একইসঙ্গে অল্প পরিমাণ কাজ করতে গিয়ে প্রচুর এনার্জি খরচ হয়ে যায়। এমন ধরনের সমস্যা কমাতেও দারুণ কাজ করে পুশ আপ। কারণ প্রতিদিন পুশ আপ অনুশীলন করলে মাংসপেশির ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শরীরের সার্বিক কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
শরীরের উপরিভাগের ক্ষমতা বাড়ে পুশ আপ অনুশীলন করা শরীরের উপরিভাগের জন্য খুবই উপকারি। আসলে যখন আমরা পুশ আপ করি, তখন আমাদের প্রতিটি মাংসপেশি শরীরের ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই এক্সারসাইজটি করার সময় শিরদাঁড়া সোজা থাকতে পারে এবং দেহকে উপর নিচ হতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে বুক, পেট এবং কাঁধের ওপর ক্রমাগত চাপ পরতে থাকায় শরীরের এই অংশগুলিও উপকৃত হয়। এইভাবে শরীরের উপরিভাগের কার্যক্ষমতা এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়।

No comments:
Post a Comment